Tuesday, November 1, 2022

সচেতন হোন, ডেঙ্গু থেকে বাঁচুন।

ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগ। এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমনের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরের উত্তালে কাঁপছে সারা বিশ্ব। ডেঙ্গু জ্বর থেকে বেঁচে থাকতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও নির্দেশ দিয়েছে। তাই যে বিষয়টি নিয়ে সারা দেশ সহ এখন আতঙ্কিত সে বিষয়ে আলোচনা করবো।

ডেঙ্গু নামটির উৎপত্তি 

'ডেঙ্গু' নামটি কোথা থেকে এসেছে, তা পরিষ্কার নয়। কিন্তু ধারণা করা হয় যে, আফ্রিকার সোয়াহিলি ভাষার প্রবাদ ''কা-ডিঙ্গা পেপো' থেকে 'ডেঙ্গু' নামটি এসেছে। নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

নেদারল্যান্ডস এর ডেঙ্গু নিয়ে গবেষক ডি. . ব্লেইজিস-এর মতে, সোয়াহিলি ভাষার 'ডিঙ্গা' শব্দটি স্প্যানিশ শব্দ 'ডেঙ্গু' থেকে আসতে পারে, যার মানে হলো 'সতর্ক থাকা' একজন ব্যক্তির হাড়ে ব্যথা থেকে সতর্ক থাকা ব্যাখ্যা করতে বোঝানো হয়, যা ডেঙ্গু জ্বরের সময় হয়ে থাকে।

 

আরেকটি ধারণা চালু আছে যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে যে দাসরা এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অনেকটা ত্যাড়াব্যাকা হয়ে হাঁটতো বলে তাদের ডাকা হতো ' ডান্ডি ফিভার' বলে, সেখান থেকে 'ডেঙ্গু' নামটি এসেছে।

ডেঙ্গু জ্বর রোগের প্রথম শনাক্ত

ডেঙ্গু একটি প্রাচীন রোগ। এই রোগের প্রথম উল্লেখ পাওয়া গেছে চীনের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রে। সেখান থেকে জানা যায়, চীনে এই রোগটি ৯৯২ খৃষ্টাব্দে শনাক্ত করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন বলছে, আঠারো এবং উনিশ শতকের দিকে বিশ্বব্যাপী যখন জাহাজ শিল্পের বিকাশ ঘটতে থাকে, বন্দর নগরীগুলো গড়ে উঠতে শুরু করে এবং শহর এলাকা তৈরি হয়, তখন এই ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী ভেক্টর এবং এডিস ইজিপ্টির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়।

এই জ্বরকে শনাক্ত এবং ডেঙ্গু জ্বর বলে নামকরণ করা হয় ১৭৭৯ সালে। এরপরের বছর প্রায় একই সময়ে এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকায় ব্যাপকভাবে দেখা যায়। শরীরে ব্যথার কারণে তখন একে 'হাড়ভাঙ্গা জ্বর'বলেও ডাকা হতো।

ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো হল 

            ১. আকস্মিক জ্বরের সূত্রপাত

            ২. মাথা ব্যাথা (সাধারণত চোখের পিছনে)

            ৩. পেশী এবং গাঁটের ব্যথা

            ৪. ফুসকুড়ি

            ৫. শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া (কাঁপুনি)

            ৬. চামড়ায় লাল মসৃন ফুসকুড়ি

            ৭. মুখ লাল হয়ে যাওয়া

            ৮. ক্ষুধামান্দ্

            ৯. গলা ব্যথা

            ১০. অস্বাভাবিক রক্তপাত ( যেমন, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তপাত এবং  প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া

ডেঙ্গ জ্বরের উপসর্গ 

এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাব্য উপসর্গগুলোর মূল ভিত্তি হচ্ছেখুব বেশী জ্বর এবং এই সঙ্গে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলোর যে কোনো দুটি থাকতে পারে

             মস্তিস্কের অগ্রভাগে গুরুতর যন্ত্রণা 

             চোখের পাস্চাত্ভাগে ব্যথা ও চক্ষু সঞ্চালনে কষ্ট 

             পেশী ও গাঁটের ব্যথা 

             বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া 

             গ্রন্থি ফুলে যাওয়া 

  আণুবীক্ষণিক পরীক্ষা   : পরীক্ষাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে শ্বেত রক্ত কনিকার সংখ্যা কম ধারা পড়লে গোড়ার দিকের পরিবর্তন সনাক্ত করা যায় এবং তারপর বিপাকীয় অম্লাধিক্যজনিত বিকার সমন্বিত পরীক্ষার দিকে এগোনো যায়। স্বল্প অনুচক্রিকা ও শ্বেত রক্তকণিকার কারণ হল যকৃত থেকে নিসৃত উচ্চ পর্যায়ের অ্যামিনো ট্রান্সফেরাস (এ এস টি এবং এ এল টি)।

  দ্রুত রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা   : ডেঙ্গু-বিরোধী 1gG ও 1gM অ্যান্টিবডি নির্ধারণ করতে;দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা চমৎকারপদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। স্যাম্পল বা নমূনার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে 1gG অ্যান্টিবডির উপস্থিতি 1gM অ্যান্টিবডি নির্ধারণ করতে বাধা দেয় না বা হস্তক্ষেপ করে না। যথেষ্ট শুদ্ধ ডেঙ্গু -প্রোটিনের মিশ্রণ নিয়ে পরীক্ষা করলে চার পর্যায়েরই ডেঙ্গুর নির্ধারণ সম্ভব।

এই রোগে ব্যথা নিরামক প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সাহায্য করতে পারে, তবে অ্যাসপিরিন জাতীয ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এর ফলে খুব খারাপ ধরনের রক্তপাত ঘটতে পারে।যথাযথ বিশ্রাম নিন ও প্রচুর পরিমানে তরল পান করুন। যদি ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না ঘটে তাহলে আরো ডাক্তারি পরামর্শ নিন।  

একজন মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু রোগটি সাধারণ পর্যায় থেকে জীবন বিপন্নকারী আকার ধারণ করতে পারে--যাকে গুরুতর বা সিভিয়ার ডেঙ্গু বলা হয়। যদিও এর কারণ এখনো পর্যন্ত অস্পষ্ট, তবুও আগে কখনো ঘটে থাকা অতীতের ডেঙ্গু-সংক্রমণ এর কারণ হতে পারে। এটি অবশ্য সবার ক্ষেত্রে ঘটে না। গুরুতরভাবে ডেঙ্গু-আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে আকস্মিক রক্তচাপ কমে যাওয়া আরেক জটিলতার মধ্যে পড়ে, যা ডেঙ্গু-অভিঘাত লক্ষণ (ডেঙ্গুশক সিন্ড্রোম ) নামে পরিচিত।এই ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের উপসর্গগুলো হল:

 ঠান্ডা, আঠালো চামড়া

 দুর্বল ও দ্রুত নাড়ির স্পন্দন

মুখগহ্বর শুকিয়ে যাওয়া 

প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া 

দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস  

প্রতিরোধ

এখানো পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধের কোনো টিকা নেই। এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উত্তম উপায় হচ্ছে মশার কামড় এড়িয়ে চলা।

কীট-পতঙ্গ বিতাড়ক দ্রব্যের ব্যবহার  

মশারির ভিতর ঘুমোনো  

বাইরে বেরোনোর সময় ফুল হাতা জামা ও লম্বা পাজামা পরে বেরোনো ও পোশাকে ডি ই ই টি-সমৃদ্ধ মশা তাড়ানোর তরল ছড়িয়ে নেওয়া, বিশেষত: ডেঙ্গু আক্রান্ত জায়গায় যাওয়ার আগে।  

মশার বংশ-বিস্তার কমাতে জলের পাত্র ঢাকা দিয়ে রাখা 

ডেঙ্গু জ্বর বিষয়ে অধিক জ্ঞান আহরণের জন্যে এই বইটি পড়তে পারেন।

বইটি পড়তে ক্লিক করুন -  ডেঙ্গু বিষয়ক পড়াশোনা ও সচেতনা।

যেখানে সেখানে পানি জমিয়ে রাখবেন না, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হবে না। 

Monday, October 31, 2022

হাড় ক্ষয় ! ভয় নয় ! হাড়ের ক্ষয়কে করুন জয়।

হাড় কি? 

হাড় হল একটি কঠিন অঙ্গ, যা মেরুদণ্ডী প্রাণীর কঙ্কাল তৈরি করে। হাড়গুলি দেহের বিভিন্ন অঙ্গকে সুরক্ষা দেয়, লোহিত এবং শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি করে, খনিজ পদার্থ জমা রাখে, শরীরের কাঠামো তৈরি করে, এবং চলনে সহায়তা করে। দেহের হাড় বিভিন্ন আকারের হয় এবং এর একটি জটিল অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক কাঠামো থাকে। এগুলি হালকা হলেও শক্ত হয়, এবং একাধিক কাজ সম্পন্ন করে। 

হাড় ক্ষয়ঃ 

হাড় ক্ষয় একটি সার্বজনীন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বিশ্ব চল্লিশ বছরের উর্ধেব বেশির ভাগ মানুষেরই এই রোগে বাসা বাঁধে।  অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় রোগ হচ্ছে এমন একটি রোগ, যার ফলে হাড়ের ঘনত্ব নির্দিষ্ট মাত্রায় কমে যাওয়ায় হাড় ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এতে হাড়ের ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমে যায়, হাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে ক্রমেই হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। বর্তমান সময়ে এই রোগে অনেকেই ভুগছেন। দীর্ঘদিন এই সমস্যা জিইয়ে রেখে একটা পর্যায়ে বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। অস্টিওপোরোসিসে হাড়ের ঘনত্ব কমে হার ছিদ্রযুক্তদুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে এর প্রতিরোধ বা চিকিৎসা না নিলে একান্ত ব্যক্তিগত কাজকর্ম যেমন- নামাজ পড়াগোসল করাটয়লেটে যাওয়াহাঁটাচলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

শুরুতে হাড় ক্ষয় রোগ শনাক্ত করা গেলে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্তি মেলে।  



চলুন জেনে নেই কি কারনে হাড়ের ক্ষয় রোগ হতে পারে- 

   * হাড়ের গঠন ও ক্ষয়ের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।

   * মহিলাদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাব।

   * থাইরয়েড এবং প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থিজনিত সমস্যা।

   * অপর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণ।

   * জেনেটিক বা বংশানুক্রমিক রোগ যেমন- হাড়ের ক্যান্সার ইত্যাদি। 

আবার বিভিন্ন খাবারের সমস্যার কারনেও হাড়ের ক্ষয় হতে পারে। 

*  খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত প্রোটিন থাকলে তা শরীরের ক্যালসিয়ামকে কাজ করতে বাধা দেয়। ফলে হাড়ে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হতে পারে।

*  অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খেলে সোডিয়াম ক্লোরাইড শরীর থেকে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম বের করে দেয়। এভাবে হাড়ের ক্ষতি হতে পারে।

*  দিনে দু-এক কাপ চা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যেও ক্ষতিকর।

*  কোমল পানীয় খাওয়া যাদের অভ্যাস তারা এবার সতর্ক হোন। কোমল পানীয়তে থাকা ফসফরিক অ্যাসিড শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দেয়। তাই এড়িয়ে চলুন কোমল পানীয়।

উপসর্গ ও লক্ষণ

অস্টিওপোরোসিসে হাড় নীরবে ক্ষয় হতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে হাড় ভাঙার মাধ্যমে এর উপস্থিতি প্রথমে টের পাওয়া যায়। প্রধান লক্ষণ-

   * হাড় ও পেশিতে ব্যথা।

   * ঘাড় ও পিঠে ব্যথা।

   * খুব সহজে দেহের বিভিন্ন স্থানে হাড় (বিশেষ করে মেরুদণ্ড, কোমর বা কব্জির হাড়) ভেঙে যাওয়া।

   * কুঁজো হয়ে যাওয়া। 

  যেভাবে শনাক্ত করবেন

 সাধারণ এক্স-রে দ্বারা অস্টিওপোরোসিস সম্পর্কে ধারণা করা যেতে পারে। তবে সঠিকভাবে এর মাত্রা জানতে হলে বোন মিনারেল ডেনসিটি (বিএমডি) পরীক্ষা করা দরকার। সাধারণত কোমর, মেরুদণ্ড বা কব্জির ডেক্সা স্ক্যান করে বিএমডির সঠিক মাত্রা নির্ণয় করা হয়। বিএমডি দ্বারা হাড়ের ঘনত্ব সঠিকভাবে নির্ণয় করে হাড় ভাঙার ঝুঁকি এবং এর সঠিক চিকিৎসা নির্ধারণ করা যায়।

   বিএমডির মাত্রাগুলো জেনে নেয়া যাক

   * স্বাভাবিক: I score-ISD এর সমান বা ওপর (পজেটিভ)

   * অস্টিওপেনিয়া: T score- ISD থেকে-2.5 SD

  * অস্টিওপোরোসিস: T score- 2.5 SD থেকে কম (নেগেটিভ) 

 যাদের ঝুঁকি বেশি

   * মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ-পরবর্তী মহিলা।

   * অপর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণ করা।

   * ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন করা।

   * শরীরচর্চা না করা।

   * রিউমেটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গেঁটেবাত।

 * এইডসস্তন ক্যান্সারপ্রোস্টেট ক্যান্সার ইত্যাদি রোগ এবং এসব রোগের ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায়।

   * দীর্ঘ দিন ধরে কটিকোস্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করা।

চিকিৎসা

সঠিক সময়ে অস্টিওপোরোসিসে চিকিৎসা না নিলে দেহের বিভিন্ন অংশের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক বিবেচনায় দুঃসহ জীবনযাপন করতে হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতি পাঁচজনে একজন রোগী হাড় ভাঙার এক বছরের মধ্যে মারা যায়। কাজেই অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তার দিকে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। জীবনযাত্রার সঠিক নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত।

   * নিয়মিত ব্যায়াম করা।

   * ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করা।

   * শরীরে ওজন কমান, ফাস্টফুড ও চর্বিজাতীয় খাদ্য এড়িয়ে চলা।

   * পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ছোট মাছ, দুধ, ডিম ইত্যাদি গ্রহণ করা।

   * চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ ট্যাবলেট গ্রহণ করা যেতে পারে।

   * বয়স্ক পুরুষ বা নারী এবং মেনোপজ পরবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’-এর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাড় ক্ষয় প্রতিরোধকারী ওষুধ যেমন- বিসফসফোনেট, এলেনড্রোনিক এসিড, ইবানড্রোমি এসিড, জোলেনড্রোনিক এসিড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।

ক্যালসিয়াম : প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের (১৮-৫০ বছর পর্যন্ত) দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৫১ বছর বা তদূর্ধ্বে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাবার থেকে গ্রহণ করা উচিত। দুধশাকসবজিহাড়সহ ছোট মাছফলমূলসরিষার তেল ইত্যাদি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার।

ভিটামিন ‘ডি’: ভিটামিন ‘ডি’-এর অন্যতম উৎস হল সূর্যালোক। মানবদেহের অভ্যন্তরে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি হওয়ায় একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়াযার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সূর্যালোক দেহের সংস্পর্শে আসা প্রয়োজনীয়। সামুদ্রিক মাছ (যেমন- টুনাসার্ডিনস্যালমন ইত্যাদি)কড লিভার তেলডিমদুধগরুর কলিজামাখন ইত্যাদি ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার।

আরো বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ে নিতে পারেন। চাইলে বিনামূল্যে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

বইয়ের লিঙ্ক - শারীরিক বর্ধন ও বিকাশ

অচেতন নয় সচেতন হোন। সুস্থ্য থাকুন। 

Sunday, October 30, 2022

অসময়ে খাবার হোক বারণ, আপনার খাবার হোক সুস্বাস্থ্যের কারন।

একটি খনার বচন রয়েছে- 
                                        
                                            মাংসে মাংস বৃদ্ধি, ঘৃতে বৃদ্ধি বল।  
                                         দুধে রক্ত বৃদ্ধি, শাকে বৃদ্ধি মল।।

খাবারের পুষ্টি সম্পর্কে বর্তমানে আমরা সকলেই অবগত হচ্ছি। যদি খাবারে বিভিন্ন রকম রাসায়নিক সার সহ কিটনাশকের মাধ্যমে আমরা খাবারকে বৃদ্ধি, বড়,মিষ্টি ও সুন্দর চেষ্টা করার চেষ্টা করায় খাবারের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুন পূর্বের তুলনায় দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তবুও মানুষ নানা রকম রোগে ভোগে খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। তাই এখন নানা রকম স্বাস্থ্যকর ফলমূল সহ বিদেশী পুষ্টিকর খাদ্যও আমাদের দেশে হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে এবং প্রচুর মানুষ তা এখন ক্রয় করে খাচ্ছে। কিন্তু ভালো মানের পুষ্টিকর খাবার কিনে খেয়েও মানুষের যেন রোগ থেকে আর মুক্তি নেই। এর সমস্যায় রয়েছে খাবারের সঠিক সময়। পুষ্টিকর খাবার তো খাচ্ছেন কিন্তু সেই পুষ্টিকর খাবারই আপনার রোগের কারন হয়ে উঠছে না তো?  


অনেকেই সুস্থ খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন না প্রায়ই। অথচ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে জীবনযাপন না করলে ওজন নিয়ন্ত্রণ এক কথায় অসম্ভব। এমনকি আপনার ডায়েট কিংবা ব্যায়ামেও কোনো সুফল পাবেন না। যারা সুস্থ সুন্দর জীবন গড়তে চান তাদের উচিত হেলদি লাইফস্টাইল মেনে চলা। অর্থাৎ সময়মতো খাওয়ার অভ্যেস গড়া।
কিন্তু কখন কোন খাবার খাবেন? এ নিয়ে কি সত্যিই কোনো বাধাধরা নিয়ম আছে? না, তেমন বাধাধরা নিয়ম নেই। কিন্তু অধিকাংশ ডায়েট বিশেষজ্ঞ কিংবা পুষ্টি বিশেষজ্ঞ একটি সাধারন রুটিনে একমত হতে পেরেছেন। তারা মনে করেন এই সময়ে নিয়মিত খেলে আপনার ডায়েটের ফলাফল আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। আসুন তবে জেনে নেই কখন কোন খাবার খেতে হবে।
তবে কিছু প্রবাদ থেকে বুঝতে পারি খাবারের ও কিছু সময় লক্ষ করা যায় যা প্রাচীনকালে মানুষ মেনে চলতেন। 

প্রবাদ উল্লেখ্য করা যায়-                    ক্ষীরা দিবায় হীরা, রাত্রিতে পীড়া ।
                                                       

এই ক্ষীরা বা শষা জাতীয় পানীয় সবজি দিনের বেলায় আহারের জন্য উৎসাহিত করা হলেও রাতে খাবারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। 

আরেকটা প্রবাদ উল্লেখ্য করা যায়-  সকালে কলা স্বর্ণ, দুপুরে রুপা, রাতে বিষ । 

সকালে কলা মানব দেহে কলা স্বর্ণের মত দামি কাজ করে থাকে কিন্তু খালি পেটে নয় অবশ্যই এবং দুপুরে রুপার মত দামি কাজ করে এবং রাতে কলা তো উপকারে আসেই না বং এটা খেলে বদ হজম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম ক্ষতি কারন হয়ে দাঁড়ায়। আমার উদ্দ্যেশ্য কলাকে বিষ হিসেবে প্রমাণ করা নয়।  আমার উদ্দ্যেশ্য হলো দিনকে অষ্ট প্রহর হিসেবে ভাগ করে আপনার সঠিক সময়ে সঠিক খাবার গ্রহণ করার ব্যাপারে উদ্ভোদ্ধ করা। 

তাই চলুন আপনার সারাদিনের খাবার গুলো কখন কখন খেলে আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত থাকবেন তা সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। 


সকালের খাবারঃ 
ঘুম থেকে ওঠার আধ ঘণ্টার ভেতর সকালের নাস্তা সেরে ফেলা উচিৎ । 
সকালের নাস্তা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার - এ কথা নতুন কিছু নয়। একটি জনপ্রিয় প্রবাদ আছে সকালের নাস্তা অন্তত রাজার হালে হওয়া উচিত। পেটভরে সকালের নাস্তা করলে সারাদিনের ব্যস্ততার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া মস্তিস্ক ঠিকঠাক কাজ করতে পারে, ক্ষুধামন্দা কম লাগে, ওজনও ঠিক থাকে। এজন্য সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া যাবে না।
কিন্তু সকালের নাস্তায় ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া চলবে না। নাস্তার খাবারে জটিল শর্করা, আমিষ, সবজি, ফ্যাট ইত্যাদি খাবারের ব্যালেন্স বজায় রাখতে হবে। সবসময় সকাল আটটার ভেতর নাস্তা সেড়ে নিতে পারলে বেশি উপকার পাবেন। সকাল আটটার দিকে নাস্তা করার পর ক্ষুধা লাগতেই পারে। সকালের দিকে ব্যস্ততা বেশি থাকে। তাই অনেকের ফুড ক্রেভিং হয়। সেক্ষেত্রে ১০টা কিংবা ১১টার দিকে হালকা নাস্তা করা যেতে পারে। হালকা নাস্তার ক্ষেত্রে ফল-ফলাদির চেয়ে ভালো কোনো খাবার হতে পারে না।

দুপুরের খাবারঃ 

দুপুর ১টা কিংবা ২টার মধ্যে দুপুরের খাবার সেরে ফেলতে হবে। তার অধিক সময় অপেক্ষা করলেই আপনার গ্যাসট্রিক জনিত সমস্যা আপনার পীড়ায় পরিনত করতে পারে। তাই চেষ্টা করতে হবে যেনো দুপুর দুইটার আগেই খাবার খেয়ে ফেলতে পারেন।  
দুপুরের খাবারেও সকালের খাবারের মতো ব্যালান্স ডায়েট রাখতে হয়। যারা ওজন কমাতে চান তারা জটিল শর্করা দিয়ে মাছ, সবজি খেতেই পারেন। 


বিকেলের নাস্তাঃ 

বিকেলের নাস্তা করুন ৪টার দিকে। 
দুপুরের খাবারের পর খাওয়া-দাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। সন্ধ্যার পর কাজের পরিমাণ কিছুটা কমতে শুরু করে। তাই এ সময় অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে মেদ বাড়ায়। এ সময় হালকা নাস্তা করতে পারেন। যেমন সুগার ফ্রি ক্র্যাকার, টোস্ট, ফলের সালাদ কিংবা স্বাস্থ্যকর পানীয়।

রাতের খাবারঃ 

রাতের খাবার হবে রাত ৭/৮ টায়। আমরা অনেকেই মধ্য রাতে খাবারের অভ্যাস তৈরী করে ফেলেছি। যা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই উপকারী নয়। রাতের খাবার খাওয়ার পর দ্রুত বিছানায় যেতে পারলে ঘুম ভালো হবে। রাতের খাবারে যতটুকু সম্ভব শর্করা এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ শর্করা রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলত ঘুমের ব্যাঘাত হতেই পারে। এমনকি এসময় জটিল শর্করাও খাওয়া যাবে না। তবে যদি জটিল শর্করার খাবার খেতেই হয়, ঘুমোনোর ৩-৪ ঘণ্টা আগে খেতে হবে।

সুস্থ থাকুন, খুশি থাকুন। 

Saturday, October 29, 2022

হার্ট অ্যাটাক মুক্ত থাকুন, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ুন।

হার্ট অ্যাটাক কথাটা শুনলেই বুকের ভেতরটা কেমন জানি একটা অন্যরকম অনুভুতির সৃষ্টি হয়। কোন নিকট আত্বীয় বা বন্ধু বান্ধবের হার্ট অ্যাটাকের মত কোন খবর কানে আসলে বোধ করি কিছুক্ষনের জন্য হারিয়ে যাই অন্য এক জগতে। বুকে খুব জুড়ে কাপনি দিয়ে কাপতে থাকে। জ্বী যে অটোমেটিক যন্ত্রটার কথা বলছি সেটাই হার্ট। যা আমাদের শরীরের সমস্ত ইন্দ্রিয় সহ সমস্ত কার্যকারীতা বন্ধ করে দিলেও এই যন্ত্রটা একটা সামান্য সময়ের জন্য ও বন্ধ হয় না। চলতে থাকে অবিরাম। আর এই যন্ত্রটা কখনো কোন কারনে বন্ধ হলেই আমরা এটাকে হার্ট অ্যাটাক বলে থাকি। বর্তমানে এর জন্য কমবয়সীসহ সবাইকেই বিশেষজ্ঞরা এখন সতর্ক থাকতে বলছেন। অনেকেই হয়তো জানেন, শীতে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বেড়ে যায়। তবে এর পেছনে কারণ কী?

বহু সমীক্ষায় দেখা গেছে, শীতে হার্ট অ্যাটাক ছাড়াও হার্টের অন্যান্য সমস্যাসহ স্ট্রোকের ঘটনাও বেড়ে যায়। এর কারণ হলো শীতে আমাদের শরীরে স্নায়ুব্যবস্থার সিমপ্যাথেটিক অ্যাক্টিভেশন বেড়ে যায়। তাই রক্তনালি সঙ্কুচিত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। একে বলে ভ্যাসোকনস্ট্রিকশন।


এমনটি ঘটলে শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যায়। তাই পুরো শরীরে রক্ত সরবারহ করতে হৃদযন্ত্র দ্বিগুণ গতিতে কাজ করে। এক্ষেত্রে বাইরের তাপমাত্রা অনেকটা কমলে, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে অসুবিধা হয়।

তাতে হাইপোথার্মিয়া হতে পারে যাকে হৃদযন্ত্রের রক্তনালির ক্ষতি হয়। যাদের এমনিতেই হৃদরোগ আছে, তাদের শরীর এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খায়। শীতে আবার শরীরের অক্সিজেনের প্রয়োজন বেড়়ে যায়।

অন্যদিকে ভ্যাসোকনস্ট্রিকশনের জন্য এমনিতেই রক্তনালি সরু হয়ে যায়। তাই হৃদযন্ত্রে কম অক্সিজেন পৌঁছায়। এতেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

শীতে হার্ট অ্যাটাক রোধে যেভাবে সতর্ক থাকবেন-

 ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঘর থেকে অযথা বের হবেন না। বের হলেও গরম পোশাক পরুন। বিশেষ করে মাথা, হাত, পা ভালো করে টুপি, মোজা, জুতা দিয়ে ঢেকে তবে বাইরে বের হন।

 আবার একসঙ্গে অনেকগুলো গরম পোশাকও পরবেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যধিক গরম পোশাক শরীরের উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দেয়। যা শরীরে রক্ত সঞ্চালনে প্রভাব ফেলে।

এ কারণে বেশি গরম পোশাক একসঙ্গে পরলে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে। এর থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় জ্বরের সমস্যাতেও ভোগেন অনেকেই। শীতকালে জ্বর হলে তার থেকে হৃদরোগ দেখা দেওয়ারও ঝুঁকি থাকে। তাই জ্বর কিংবা ঠান্ডা লাগার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 শীতে অ্যালকোহল সেবন বা মদ্যপান বর্জন করা দরকার। মদ্যপান শরীরে রক্ত সঞ্চালনে প্রভাব ফেলে শরীর গরম করে দেয়। শীতে শরীরের ভেতরে গরম ও বাইরের ঠান্ডা আবহাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

 নিয়মিত শরীরচর্চা করা বন্ধ করবেন না। শরীরচর্চা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

 নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন। শীতে বাইরে ঠান্ডা আর শরীরের ভেতরে গরম হওয়ার কারণে রক্তচাপে প্রভাব পড়ে। তাই নিয়মিত মাপুন রক্তচাপ। বেশি হলে রক্তচাপ কমান ও চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চলুন।

হার্ট সুস্থ রাখতে খাদ্য তালিকায় কিছু খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তা নিন্মে উল্লেখ্য করা হলো। 

সবুজ সবজি 🍆🍅

সবুজ শাক হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। স্পিনাচ, কলি এসব সবুজ শাকগুলোতে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান ধমনীকে সুরক্ষা দেয় এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে- সবুজ শাক হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।  

রসুন 🧄

রসুন খেলে হার্ট সতেজ থাকে। রসুন হার্টের জন্য অনেক ভালো। নিয়মিত রসুন ব্লাঞ্চিং (গরম পানিতে ২ মিনিট ফুটানো) করে খেলে অথবা তরকারিতে আস্ত রসুন খেলে হার্ট সতেজ থাকে।  

কমলা 🍊

মাঝারি আকৃতির কমলায় ৬২ ক্যালরি থাকে। কমলায় রয়েছে পেকটিন নামের আঁশ, যা কোলেস্টেরল কমাতে বেশ সহায়ক। এতে আরো আছে পটাসিয়াম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকৃতির কমলায় ৬২ ক্যালরি থাকে এবং তিন গ্রাম আঁশ থাকে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় কমলাকে স্থান দিন।  

বাদাম 🌰

বাদাম হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য খু্বই উপকারী। এক মুঠো বাদাম যেমন- কাজু বাদাম, চীনা বাদাম, হেজেলনাট, আখরোটসহ অন্যান্য বাদাম হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য খু্বই উপকারী। এই বাদামগুলো প্রোটিন, আঁশ, খনিজ, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। আখরোটে উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়।  

বেরি 🍓

নিয়মিত বেরি ফল খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। হার্ট সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই ফলটি। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি এবং রাস্পবেরির মতো ফলে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা হার্টকে সুরক্ষা করে। মানসিক চাপ এবং প্রদাহ মুক্ত রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বেরি ফল খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।  

ডার্ক চকলেট 🍫

ডার্ক চকলেট হাইপারটেনশন বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমে । ডার্ক চকলেট মস্তিষ্কের নার্ভ সিস্টেমকে সতেজ রাখে। এতে হাইপারটেনশন বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

মাশরুম 🍄

মাশরুম হার্ট অ্যাট্যাকের পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে  মাশরুমে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোটিন আছে যা হার্ট অ্যাট্যাকের পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।  

 টকদই 🍮

টকদই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। টক দইয়ে প্রোবায়োটিক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। টকদই হার্টের সুরক্ষা করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, হজমের উন্নতি ঘটায় সর্বোপরি শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।  

বীজ জাতীয় খাবার 🍉

ওমেগা৩ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে । তিল, সিয়াসিডের মতো বিচিজাতীয় খাবার ওমেগা ফ্যাটিঅ্যাসিডে ভরপুর। ওমেগা ৩ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।  তাই প্রচুর পরিমান বীজ জাতীয় খাবারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি কমিয়ে আনতে পারে। 

ওটমিল 🍲

ওটস এলডিএল এবং কোলেস্টেরল কমিয়ে আনতে সক্ষম ওটমিলে রয়েছে প্রচুর দ্রবণীয় আঁশ, যা হার্টের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ওটস এলডিএল এবং কোলেস্টেরল কমিয়ে আনতে সক্ষম।  

গ্রীন টি 🍵

গ্রিন টি শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গ্রিন টি খুবই কার্যকরী। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গ্রিন টি শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, গ্রিন টি রক্ত জমাট বাধতে দেয় না। পাশাপাশি, গ্রিন টি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে। ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভবনা অনেকটাই কমে যায়।  

সামুদ্রিক মাছ 🐟

রূপঁচাদা, কোরাল, রূপসা, লাক্ষা জাতীয় সামুদ্রিক মাছ বাংলাদেশে পাওয়া যায় সেগুলো খেতে পারেন।সামুদ্রিক মাছে আছে হার্টের জন্যে উপকারী ওমেগা-৩। রূপঁচাদা, কোরাল, রূপসা, লাক্ষা জাতীয় সামুদ্রিক মাছ বাংলাদেশে পাওয়া যায় সেগুলো খেতে পারেন। বিদেশি সামুদ্রিক মাছের মধ্যে টুনা, স্যামন, সারডিন, ম্যাকারেল, হেরিং ইত্যাদি যদি সংগ্রহ করতে পারেন তাহলে খেতে পারেন।  

পানি 💧

শীতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এর সঙ্গে নজর রাখুন দ্যাভ্যাসেই। হালকা খাবারের সঙ্গে টাটকা ফলসবজিও পাতে রাখা দরকার।

রোগ মুক্ত জীবনে, সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনে। 


Thursday, October 27, 2022

মুখে দুর্গন্ধ হচ্ছে! মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে! তাহলে এই পোষ্ট টি আপনার জন্য।

আপনাকে জানতে হবে মুখে দুর্গন্ধ কেন হয়? 

আমাদের অনেকের মুখে দুর্গন্ধ হয়। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের লোকজনের সামনে কথা বলতে গেলে অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।  কখনো কখনো মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়। আবার নিজের কাছে অস্বস্থিকর  মনে হয়। আমরা অনেকেই ডাক্তার বা বিজ্ঞ কারো সাথে পরামর্শ করতে চাই না। এর রয়েছে সুন্দর সমাধান। কিছু ভালো অভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর চলাফেরা আমাদের এই রকম সমস্যাজনিত উপায় থেকে মুক্তি দিতে পারে। চলুন দেখে নেয়া যাক কি সমস্যায় মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। 

                                                

* খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ঃ কিছু খাদ্যাভাসের কারনে আমাদের মুখে গন্ধ হতে পারে। আমরা এমন কিছু খাবার গ্রহণ করে থাকি যে সকল খাবারের জন্য আমাদের মুখে গন্ধ হতে পারে। যেমন - কাঁচা মূলা, কাঁচা পেঁয়াজ, ইত্যাদি। 

মুখের থুথু কমে যাওয়াঃ থুথু মুখের ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন বন্ধ করে কিন্তু রমজানে থুথুর পরিমাণ কমে যাওয়ায় ব্যাকটেরিয়াগুলোর দ্রুত প্রজনন হয়ে থাকেযা দুর্গন্ধের কারণ হয়।

* শারীরিক রোগঃ  শারীরিক কিছু রোগের কারনে মুখে গন্ধ হতে পারে। নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিসপেটের পীড়ালিভারের সমস্যাটনসিলজনিত সমস্যা ইত্যাদি।

* সঠিক পদ্ধতিতে দন্ত পরিচর্যা না করাঃ  সঠিক পদ্ধতিতে দাঁতের পরিচর্চার অভাবে বেশির ভাগ মানুষের এমন মুখে গন্ধ হয়ে থাকে। 

* দীর্ঘসময় ধরে না খেয়ে থাকাঃ দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকলেও এমন মুখে গন্ধ হতে পারে বলে গবেষকরা বলে থাকেন।  দীর্ঘ সময় কিছু না খাবারের কারণে ও জিহ্বা পরিষ্কার না করার কারণে জিহ্বার উপর সালফারের প্রলেপ পড়ে মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।

* শরীরে পানি শূন্যতাঃ  যেসব খাবার মুখের পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে, তা বেশি খাওয়া। আমরা অনেক সময় কিছু শুকনো খাবার খেয়ে সকালের নাস্তা, বিকালের প্রাতঃ খাবার কিংবা রাতের খাবার কাটিয়ে দেই। পানির প্রয়োজনীয়তা ভুলেই যাই। পানি শূন্যতার কারনে শরীরের নানা প্রকার রোগের সাথে মুখে দূর্গন্ধের মত সমস্যায় ও পড়তে পারি। 

*মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ারঃ আমাদের মধ্যে অনেকের তো মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া একটি অভ্যাসগত সমস্যা। কারো কারো এজম্যার মত রোগের কারনে অতিরিক্ত শ্বাস নেবার প্রয়োজনে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়।

ঘুমের সমস্যাঃ আমরা অনেকেই ঘুমের সময় নাক দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস না নিয়ে মুখ দিয়ে শ্বাস নেই। যার কারনে মুখের লালা শুকিয়ে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত আক্রান্ত করে। অনেক সময় ঘুমের সময় মুখ থেকে লালা বের হয় পড়তে দেখা যায় এবং তা থেকেও পড়তে দেখা যায়। 

এরকম নানা সমস্যায় মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। 


এরকম সমস্যা থেকে উত্তরনে প্রসঙ্গে কথা কিছু নির্দেশিকাঃ 

মুখের এ দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে আমরা যেসব ব্যবস্থা নেব-

* দৈনিক কম করে হলেও ৩ থেকে ৪ লিটার পানি খেতে হবে।

* ফলমূল, শাকসবজি, দইজাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত।

* লেবু, জাম্বুরা, কমলা, কামরাংগা, মাল্টা ও আনারসের শরবত পান করা।

* গাজর, শসা, টমেটো, আমড়া ও আমলকি ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখা।

* মুখ ও দাঁতের সঠিক পরিচর্যা করা।

খাবারের পর ৩০-৬০ মিনিট আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, ব্রাশ করার জন্য যেন প্রাকৃতিক উপায়ে থুথুর মাধ্যমে খাদ্য পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে ও মুখের নরমাল PH বহাল থাকে। খাবারের পরপরই মুখের PH এসিডিক থাকে, খাবার পর থুথু প্রথম মুখের PH নরমাল করে। তাই খাবারের পরপরই দাঁত ব্রাশ করার ফলে এনামেলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অপরদিকে এসিডিক PH -এ ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন হার বেশি।

* অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল মাউথ ওয়াশ যেমন- ০.২ শতাংশ ক্লোরহেক্সিডিন অথবা ০.৫ শতাংশ পভিডোন আয়োডিন প্রতিদিন ৩ বার, ২ চামচ ৩০ সেকেন্ড ধরে প্রতিবার কুলকুচি করতে হবে। গোলাপ জল দিয়ে গার্গল করা যেতে পারে।

* প্রতি রাতে ১ বার ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে হবে।

* মেনথল গাম ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে খাওয়া যেতে পারে।

* নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করা।

* মুখ ও দাঁতের অসম্পূর্ণ চিকিৎসা সম্পন্ন করে নেওয়া, যাতে খাবার না জমতে পারে।

* কোভিড-১৯ জনিত কারণে এখন সবারই সবসময় মাস্ক পরে থাকার অভ্যাস আছে, এজন্য মুখ দিয়ে সবাইকে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তাই সিডিসি গাইডলাইন অনুযায়ী, রোজাকালীন ৪ ঘণ্টা পরপর মাস্ক পরিবর্তন করতে হবে। পুনরায় ব্যবহারকৃত মাস্কগুলো ৪ ঘণ্টা পর প্লাস্টিকের ডাস্টবিনে রাখতে হবে পরে ধুয়ে পরতে হবে। রুমে একা থাকার সময় মাস্কবিহীন থাকা ভালো।

 

যেসব বিষয় বর্জন করে চলতে হবে। 

* পিঁয়াজ, রসুন, মরিচ ইত্যাদি খাদ্যের মধ্যে যে কেমিক্যাল থাকে তাহা রক্তবাহিত হয়ে প্রথমে ফুসফুসে আক্রমণ করে পরে তা প্রশ্বাসের মাধ্যমে বেরিয়ে এসে গন্ধের সৃষ্টি করে।

* ধূমপান পরিহার করতে হবে।

* খাবার সোডা ও কার্বোনেটেড ফলের রসে উচ্চমাত্রায় চিনি থাকে তাই এগুলো পানিশূন্যতার সৃষ্টি করে।

* মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বর্জন করতে হবে। 

এমন কিছু প্রয়োজনীয় খাদ্যাভ্যাস গুলো মেনে চললে ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় গুলো বর্জন করে চলতে পারলে আমাদের মুখের দুর্গন্ধ থাকবেনা, আমরা থাকবো সুস্থ,সবল ও রোগ মুক্ত। 


পরিশেষে ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। 



Tuesday, January 24, 2017

কম্পিউটার সম্পর্কে ধারনা ০১ ।

কম্পিউটার
১. প্রশ্ন: কম্পিউটার সিস্টেম এ Scanner কোন ধরনের যন্ত্র?
উত্তর: Input
২. প্রশ্ন: কম্পিউটারের মূল মেমোরি তৈরি হয় কি দিয়ে?
উত্তর: সিলিকন
৩. প্রশ্ন: Back up প্রোগ্রাম বলতে কি বোঝানো হয়?
উত্তর: নির্ধারিত ফাইল কপি করা
৪. প্রশ্ন: একটি প্রতিষ্ঠানে ডিভাইস ভাগাভাগি করে নেয়ার সুবিধা হলো—
উত্তর: অর্থ সাশ্রয়, সময় সাশ্রয় এবং স্থানের সাশ্রয়
৫. প্রশ্ন: কোনটি ছাড়া Internet-এ প্রবেশ করা সহজ নয়?
উত্তর: Web browser
৬. প্রশ্ন: কম্পিউটার মেমোরি থেকে সংরক্ষিত ডাটা উত্তোলনের পদ্ধতিকে কি বলে?
উত্তর: Read
৭. প্রশ্ন: MICR-এর পূর্ণরূপ কি?
উত্তর: Magnetic Ink Character Reader
৮. প্রশ্ন: Data manipulation Language -একটি
উত্তর: ডাটাবেজ ল্যাংগুয়েজ
৯. প্রশ্ন: কোন স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেমটি ওপেন সোর্স প্লাটফর্ম?
উত্তর: Android
১০. প্রশ্ন: মোবাইল কমিউনিকেশনে 4G–এর ক্ষেত্রে 3G এর তুলনায় অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য কি?
উত্তর: ব্রডবেন্ড ইন্টারনেট সেবা
১১. প্রশ্ন: প্রোগ্রাম থেকে কপি করা ডাটা কোথায় থাকে?
উত্তর: RAM
১২. প্রশ্ন: পার্সোনাল কম্পিউটার যুক্ত করে কোনটি তৈরি করা যায়?
উত্তর: Network
১৩. প্রশ্ন: The term PC means -
উত্তর: Personal computer
১৪. প্রশ্ন: (1011) এবং (0101) দুইটি বাইনারী সংখ্যা। এদের যোগফল বাইনারীতে কত?
উত্তর: কোনটি নয়
১৫. প্রশ্ন: A + Ā = 1 এটা কি?
উত্তর: Boolean Algebra
১৬. প্রশ্ন: 8086 কত বিটের মাইক্রো প্রসেসর?
উত্তর: 16
১৭. প্রশ্ন: কোন মেমোরীটি Non-volatile?
উত্তর: ROM
১৮. প্রশ্ন: কোনটি কম্পিউটারের প্রাইমারী মেমোরী?
উত্তর: র্যাম
১৯. প্রশ্ন: Plotter কোন ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: আউটপুট
২০. প্রশ্ন: ১ কিলোবাইট সমান--
উত্তর: ১০২৪ বাইট
২১. প্রশ্ন: Mobile Phone- এর কোনটি input device- নয়?
উত্তর: Power Supply
২২. প্রশ্ন: কোনটি ডাটাবেজ Language?
উত্তর: Oracle
২৩. প্রশ্ন: ইন্টারনেট চালুর বছর--
উত্তর: ১৯৬৯
২৪. প্রশ্ন: ডিফারেন্স ইঞ্জিন তৈরি করেন কে
উত্তর: চার্লস ব্যাবেজ
২৫. প্রশ্ন: প্রোগ্রামিং ধারনার প্রবর্তক কে?
উত্তর: অ্যাডা লাভলেস
২৬. প্রশ্ন: কোনো সফটওয়্যার ইন্সটল করার পূর্বে কোন কথাটি পড়ে নিতে হবে?
উত্তর: Read me
২৭. প্রশ্ন: নতুন কোনো সফটওয়্যার ইন্সটল করার সময় এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার-
উত্তর: বন্ধ রাখতে হবে
২৮. প্রশ্ন: ফ্রেড কোহেন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ছিলেন?
উত্তর: University of New Heaven
২৯. প্রশ্ন: কম্পিউটারের AC পাওয়ার কর্ডটি কোথায় থাকে?
উত্তর: মনিটরে পিছনে
৩০. প্রশ্ন: Home Menu থেকে New Slide ওপেন করতে Ctrl এর সাথে কোন বাটন চেপে রাখতে হবে?
উত্তর: S
৩১. প্রশ্ন: প্রেজেন্টেশনের এক একটি অংশকে কি বলা হয়?
উত্তর: Slide
৩২. প্রশ্ন: কি- বোর্ডের কোন বোতামটি চাপ দিলে প্রেজেন্টেশনের প্রথম স্লাইডটি প্রদর্শন করে?
উত্তর: F5
৩৩. প্রশ্ন: ফটোশপে কাজ করার জন্য কম বেশি কতটি টুল রয়েছে?
উত্তর: ৬৯
৩৪. প্রশ্ন: রঙের গাঢ়ত্বের পরিমাণ নির্ধারণ করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: Opacity
৩৫. প্রশ্ন: Honeywell 200 কোন প্রজন্মের কম্পিউটার?
উত্তর: দ্বিতীয়
৩৬. প্রশ্ন: মাউসের বিকল্প যন্ত্রটি কোনটি?
উত্তর: গ্রাফিক্স ট্যাবলেট
৩৭. প্রশ্ন: বাংলাদেশ ভুমি জরিপ অধিদপ্তর তাদের মৌজাম্যাপগুলো সংরক্ষণ ও সম্পাদনা করছে কি ব্যবহার করে?
উত্তর: ডিজিটাইজার
৩৮. প্রশ্ন: Refresh rate প্রকাশ করা হয় কোন এককে?
উত্তর: হার্টজ
৩৯. প্রশ্ন: ALU এর পূর্ণরূপ-
উত্তর: Arithmetic Logic Unit
৪০. প্রশ্ন: অডিও আউটের জন্য থাকে-
উত্তর: স্পিকার পোর্ট

Monday, January 23, 2017

Sunday, January 22, 2017

ELECTRICAL BASIC FOR EEE STUDENTS

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা ইলেকট্রিক্যাল ও পাওয়ার
ডিপার্টমেন্ট এর সকল শিক্ষার্থীদের মনে রাখা
প্রয়োজন ..........

ওহমের সূত্র: -

কোন সার্কিটের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট ঐ
সার্কিটের দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের
সমানুপাতিক
অর্থাৎ V∞I বা V=IR.

কারেন্ট :-

পরিবাহির মধ্যদিয়ে ইলেক্ট্রনের প্রবাহকে বলা হয়
কারেন্ট ।
কারেন্টের একক অ্যাম্পিয়ার সংক্ষেপে Amp বা A
দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

 ভোল্টেজ: -

ইলেক্ট্রন গুলোকে স্থানচুত্য করার জন্য
প্রয়োজনীয় চাপকে ভোল্টেজ বলা হয় ।
ভোল্টেজের একক ভোল্ট Volt বা V।

 রেজিস্টেন্স :-

কোন পরিবাহির মধ্য দিয়ে কারেন্ট বা ভোল্টেজ
চলাচলে যে বাধা প্রাপ্ত হয় তাই রেজিস্টেন্স,
সার্কিটের মধ্যে রেজিস্টর ব্যবহার করা হয়
প্রয়োজনীয় বাধা দানের জন্য।
রেজিস্টেন্সের একক ওহম
(Ω) দ্বারা প্রকাশ করা হয় ।

 এসি (AC): অলটারনেটিং করেন্ট

ডিসি (DC): ডাইরেক্ট কারেন্ট

ফ্রিকুয়েন্সি :-

কোন পরিবর্তনশীল রাশি প্রতি সেকেন্ট যতগুলি
সাইকেল সম্পন্ন করে তাকে ফ্রিকুয়েন্সি বলে ।

 পাওয়ার ফ্যাক্টর :-
অল্টারনেটিং কারেন্ট এবং ভোল্টেজ এর
মধ্যবর্তী ফেইজ অ্যাংঙ্গেল এর Cosine মানকে
পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে অথবা এসি সার্কিটের Active
Power ও Apparent
Power এর অনুপাতকে পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে ।

 করোনা কি:-
যখন দুইটি কন্ডাক্টরের স্পেসিং ব্যাসের তুলনায়
বেশী অবস্থায় রেখে তাদের আড়াআড়ি এসি
ভোল্টেজ প্রয়োগ করে ধীরে ধীরে
বৃদ্ধি করা হয় তখন এক বিশেষ পর্যায়ে
কন্ডাক্টরের
চার পার্শের বাতাস আয়নিত হয় এবং বাতাসের
ইনসুলেশন স্ট্রেস ভেঙ্গে যায় ।
এই অবস্থায় কন্ডাক্টর এর চারিদিকে হালকা
অনুজ্জ্বল
বেগুনী রশ্মী দেখা দেয়, হিস হিস শব্দ হয় এবং
ওজন গ্যাসের সৃষ্টি হয় এই ঘটনাকেই করোনা বলা
হয়

 স্কিন ইফেক্ট কি :-
এসি বিদ্যুৎ প্রবাহ কোন পরিবাহীর মধ্যে দিয়ে
প্রবাহিত হওয়ার সময় পরিবাহীর ভিতরে প্রবেশ না
করে যে ধর্মের জন্য পরিবাহীর উপরিতল দিয়ে
প্রবাহিত হয় বা হওয়ার চেস্টা করে তাকে স্কিন
ইফেক্ট বলে।
স্কিন ইফেক্ট তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল :
*কন্ডাক্টর পদার্থের গুনাবলীর উপর ।
*কন্ডাক্টরের ব্যাসের উপর।
*ফ্রিকুয়েন্সির উপর।

. Puncture voltage:-
যে ভোল্টেজে এ ইনসুলেটরের এর
ইনসুলেসন সম্পূর্ণ ভেঙ্গে ফেলতে পারে
তাকে Puncture voltage বলে ।

 Flash over voltage:-
যদি পরিবাহিতে ভোল্টেজ বাড়ানো হয় এবং তা
বাতাসে নস্ট হয়ে যায় এবং প্রচন্ড বিদ্যুৎ জলকের
সৃষ্টি হয় তখন এই ভোল্টেজকে Flash over
voltage বলা হয় ।

 সেগ বলতে কি বুঝায় :-
দুইটি টাওয়ার বা পোলের যেই বিন্দুতে তার টানা
বা
সংযোগ করা হয় সেই বিন্দু দুইটির সংযোজনকারী
আনুভূমিক কাল্পনিক রেখা হতে তারের সর্বোচ্চ
ঝুলে পড়া বিন্দু পর্যন্ত দুরত্বকে সেগ বলা হয় ।

 সেফটি ফেক্টর :- আলটিমেট বা Breaking
stress বা Working
stress এর অনুপাতকে সেফটি ফেক্টর বলে বলা
হয়

 ত্রি ফেইজ মোটর উল্টা ঘূর্নণ পদ্ধতি কিভাবে
করা হয়:-
ত্রি ফেইজ মোটরের তিনটি ফেইজের যে
কোন দুইটি ফেইজ পাল্টিয়ে দিলে মোটর উল্টা
ঘুরবে ।

ট্রান্সফরমার কি ধরনের ডিভাইস :-
ট্রান্সফরমার একটি ইলেক্ট্রোমেগনেটিক ডিভাইস

ট্রান্সফরমার ওয়েলের বাণিজ্যিক নাম কি:-
পাইরাণল.
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমারের কোন পাশে
তারের প্যাচঁ
সংখ্যা বেশি থাকে:- সেকেন্ডারিতে।

 ট্রান্সফরমারের ব্রীদারের কাজ কি :-
শুস্ক বাতাস ট্যাংকে প্রবেশ করানো
ট্রান্সফরমারের ব্রীদারের কাজ

ব্রীদারে শুস্ক বাতাস পরিবহনের জন্য তথা
আদ্রতা মুক্ত
বাতাস পরিবহনের জন্য ব্রীদারে কি পদার্থ ব্যবহার
করা হয়:
- সিলিকা জেল ।

► সাইকেল কি?

→ অলটারনেটিং কারেন্ট কোন একদিকে প্রবাহিত হয়ে শূন্য হতে সর্বোচ্চ অবস্থানে, সর্বোচ্চ অবস্থান হতে আবার শূন্য অবস্থানে এবং বিপরীতক্রমে শূন্য হতে সর্বোচ্চ অবস্থানে, সর্বোচ্চ অবস্থান হতে আবার শূন্য অবস্থানে ফিরে আসে তাকে সাইকেল বলে।

►ফ্রিকোয়েন্সী কি?

→ কোন পরিবর্তনশীল রাশির প্রতি সেকেন্ডে যতগুলি সাইকেল সস্পন্ন হয় তাকে ফ্রিকোয়েন্সী বলে।
একে f দ্বারা প্রকাশ করা হয়। টাইম পিরিয়ড T হলে,
F = 1/T


► পিরিয়ড কি?

→ কোন পরিবর্তনশীল রাশির এক সাইকেল সম্পন্ন হতে যে সময়ের প্রয়োজন তাকে পিরিয়ড বলে।
একে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ফ্রিকোয়েন্সী f হলে,
T = 1/f

►ফেজ কি?

→ পরিবর্তনশীল রাশির কোন নির্দিষ্ট সময়ে এর কৌণিক অবস্থানকে ফেজ বলে।

►ফেজ অ্যাঙ্গেল কি?

→ এ.সি. সার্কিটে ভোল্টেজ এবং কারেন্টের মধ্যবর্তী কোণকে ফেজ অ্যাঙ্গেল বলে।

►অলটারনেশন কি?

→ পরিবর্তনশীল রাশির অর্ধ সাইকেলকে অলটারনেশন বলে।

► ফর্ম ফ্যাক্টর কি?

→ কোন সাইন ওয়েভের আর.এম.এস. এবং গড় মানের অনুপাতকে ফর্ম ফ্যাক্টর বলে।
একে Kf দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
Kf = আর.এম.এস./ গড় মান

►পিক ফ্যাক্টর কি?

→ কোন ওয়েভের সর্বোচ্চ মান ও আর.এম.এস. মানের অনুপাতকে ক্রেস্ট ফ্যাক্টর বা পিক ফ্যাক্টর বা এ্যামপ্লিচুড ফ্যাক্টর বলে।
একে Ka দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
Ka = সর্বোচ্চ মান / আর.এম.এস. মান

►পাওয়ার ফ্যাক্টর কয় প্রকার?

→ পাওয়ার ফ্যাক্টর তিন প্রকারঃ
১. ল্যাগিং পাওয়ার ফ্যাক্টর (Lagging Power Factor)
২. লিডিং পাওয়ার ফ্যাক্টর (Leading Power Factor)
৩. ইউনিটি পাওয়ার ফ্যাক্টর (Unity Power Factor)

► পাওয়ার ফ্যাক্টর কি?

→ এ.সি. সার্কিটে কারেন্ট ও ভোল্টেজের মধ্যবর্তী কোণের কোসাইন মানকে পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে।
অথবা
অ্যাকটিভ পাওয়ার ও আপাত পাওয়ারের অনুপাতকে পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে।

কারেন্ট ও ভোল্টেজের মধ্যবর্তী কোণ ϴ হলে,
পাওয়ার ফ্যাক্টর (pf) = Cosϴ

► ল্যাগিং পাওয়ার ফ্যাক্টর কি?

→ এ.সি. সার্কিটে ক্যাপাসিটিভ লোডের চেয়ে ইন্ডাকটিভ লোড বেশী হলে, কারেন্ট ভোল্টেজের পরে অবস্থান করে, সার্কিটের এই অবস্থায় পাওয়ার ফ্যাক্টরকে ল্যাগিং পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে।
এই সার্কিটকে ইন্ডাকটিভ সার্কিট বলে।
মনে রাখার সহজ উপায়:
E L I
ই.এম.এফ.(E) ইন্ডাক্টর(L) কারেন্ট(I)
L তে ইন্ডাকটিভ সার্কিট, E তে ই.এম.এফ., I তে কারেন্ট।
ইন্ডাকটিভ সার্কিটে ভোল্টেজ আগে, কারেন্ট পরে।

►লিডিং পাওয়ার ফ্যাক্টর কি?

→ এ.সি. সার্কিটে ইন্ডাকটিভ লোডের চেয়ে ক্যাপাসিটিভ লোড বেশী হলে, ভোল্টেজ কারেন্টের পরে অবস্থান করে, সার্কিটের এই অবস্থায় পাওয়ার ফ্যাক্টরকে লিডিং পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে।
এই সার্কিটকে ক্যাপাসিটিভ সার্কিট বলে।
মনে রাখার সহজ উপায়:
I C E
কারেন্ট(I) ক্যাপাসিটর(C) ই.এম.এফ.(E)
C তে ক্যাপাসিটিভ সার্কিট, E তে ই.এম.এফ., I তে কারেন্ট।
ক্যাপাসিটিভ সার্কিটে কারেন্ট আগে, ভোল্টেজ পরে।

► ইউনিটি পাওয়ার ফ্যাক্টর কি?

→ এ.সি. সার্কিটে ইন্ডাকটিভ লোড ও ক্যাপাসিটিভ লোড সমান হলে, ভোল্টেজ ও কারেন্ট একসাথে অবস্থান করে, সার্কিটের এই অবস্থায় পাওয়ার ফ্যাক্টরকে ইউনিটি পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে।
এই সার্কিটকে রেজিস্টিভ সার্কিট বলে। ইউনিটি পাওয়ার ফ্যাক্টর সার্কিটের পাওয়ার ফ্যাক্টর 1 হয়।

► ইলেকট্রিক ফ্লাক্স ডেনসিটি কি?

→ প্রতি একক ক্ষেত্রফলে যে পরিমাণ ইলেকট্রিক ফ্লাক্স অতিক্রম করে তাকে ইলেকট্রিক ডেনসিটি বলে।
এর প্রতিক D এবং একক কুলম্ব/বর্গ মিটার।

► ডাই ইলেকট্রিক পদার্থ কি?

→ ডাই ইলেকট্রিক শব্দের অর্থ অপরিবাহী।
যে সকল পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়, মুক্ত ইলেকট্রন নেই এবং বৈদ্যুতিক শক্তিকে সঞ্চয় করে রাখতে পারে তাকে ডাই ইলেকট্রিক পদার্থ বলে।

► ডাই ইলেকট্রিক কনস্ট্যান্ট কি?

→ একটি ক্যাপাসটরের প্লেট সমূহের মধ্যবর্তী বৈদ্যুতিক বলরেখা গুলোকে কেন্দ্রীভূত করার ডাই ইলেকট্রিক পদার্থের সামর্থকে ডাই ইলেকট্রিক কনস্ট্যান্ট বলে।

► এক ফ্যারাড কাকে বলে?

→ এক ভোল্ট বিভব পার্থক্যর কারণে যদি ডাই ইলেকট্রিকে এক কুলম্ব ইলেকট্রিক চার্জ সঞ্চিত হয়, তবে ঐ পরিমাণ ক্যাপাসিট্যান্সকে এক ফ্যারাড বলে।

► ইলেকট্রলাইট কি?

→ সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য যে তরল বা পেস্ট ব্যাবহার করা হয় তাকে ইলেকট্রলাইট বলে।
ইলেকট্রলাইট হিসেবে সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, এ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, এ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি ব্যাবহার করা হয়।
ড্রাই সেলে পেস্ট ইলেকট্রলাইট এবং লিকুইড সেলে তরল ইলেকট্রলাইট ব্যাবহার করা হয়।

► প্রাইমারী সেল কি?

→ যে সেলের শক্তি শেষ হয়ে গেলে পুনরায় একে কর্মক্ষম করা যায় না তাকে প্রাইমারী সেল বলে।
অল্প পাওয়ারের প্রয়োজন এমন যায়গায় সাধারণত প্রাইমারী সেল ব্যাবহার করা হয়। যেমনঃ ঘড়ি, রিমোট কন্ট্রোল, খেলনা ইত্যাদি।

► সেকেন্ডারী সেল কি?

→ যে সেলের শক্তি শেষ হয়ে গেলে পুনরায় একে কর্মক্ষম করা যায় তাকে সেকেন্ডারী সেল বলে।
বেশি পাওয়ারের প্রয়োজন এমন যায়গায় সাধারণত সেকেন্ডারী সেল ব্যাবহার করা হয়। যেমনঃ ইমার্জেন্সি লাইট, আই.পি.এস. ইউ.পি.এস. ইত্যাদি।