'ডেঙ্গু'
নামটি কোথা থেকে এসেছে,
তা পরিষ্কার নয়। কিন্তু ধারণা
করা হয় যে, আফ্রিকার
সোয়াহিলি ভাষার প্রবাদ ''কা-ডিঙ্গা পেপো'
থেকে 'ডেঙ্গু' নামটি এসেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন
গবেষণায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
নেদারল্যান্ডস
এর ডেঙ্গু নিয়ে গবেষক ডি. এ. ব্লেইজিস-এর মতে, সোয়াহিলি
ভাষার 'ডিঙ্গা' শব্দটি স্প্যানিশ শব্দ 'ডেঙ্গু' থেকে আসতে পারে,
যার মানে হলো 'সতর্ক
থাকা'। একজন ব্যক্তির
হাড়ে ব্যথা থেকে সতর্ক থাকা
ব্যাখ্যা করতে বোঝানো হয়,
যা ডেঙ্গু জ্বরের সময় হয়ে থাকে।
আরেকটি
ধারণা চালু আছে যে,
ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে যে দাসরা
এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অনেকটা ত্যাড়াব্যাকা
হয়ে হাঁটতো বলে তাদের ডাকা
হতো ' ডান্ডি ফিভার' বলে, সেখান থেকে
'ডেঙ্গু' নামটি এসেছে।
ডেঙ্গু জ্বর রোগের প্রথম শনাক্ত
ডেঙ্গু
একটি প্রাচীন রোগ। এই রোগের
প্রথম উল্লেখ পাওয়া গেছে চীনের চিকিৎসা
সংক্রান্ত নথিপত্রে। সেখান থেকে জানা যায়,
চীনে এই রোগটি ৯৯২
খৃষ্টাব্দে শনাক্ত করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের
ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন বলছে, আঠারো এবং উনিশ শতকের দিকে বিশ্বব্যাপী যখন জাহাজ
শিল্পের বিকাশ ঘটতে থাকে, বন্দর নগরীগুলো গড়ে উঠতে শুরু করে এবং শহর এলাকা তৈরি হয়,
তখন এই ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী ভেক্টর এবং এডিস ইজিপ্টির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়।
এই জ্বরকে শনাক্ত
এবং ডেঙ্গু জ্বর বলে নামকরণ করা হয় ১৭৭৯ সালে। এরপরের বছর প্রায় একই সময়ে এশিয়া,
আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকায় ব্যাপকভাবে দেখা যায়। শরীরে ব্যথার কারণে তখন একে 'হাড়ভাঙ্গা
জ্বর'বলেও ডাকা হতো।
ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো
হল
১. আকস্মিক জ্বরের সূত্রপাত
২. মাথা ব্যাথা (সাধারণত চোখের পিছনে)
৩. পেশী এবং গাঁটের ব্যথা
৪. ফুসকুড়ি
৫. শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া (কাঁপুনি)
৬. চামড়ায় লাল মসৃন ফুসকুড়ি
৭. মুখ লাল হয়ে যাওয়া
৮. ক্ষুধামান্দ্
৯. গলা ব্যথা
১০. অস্বাভাবিক রক্তপাত ( যেমন, নাক দিয়ে
রক্ত পড়া, দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তপাত এবং প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া
ডেঙ্গ জ্বরের উপসর্গ
এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাব্য উপসর্গগুলোর মূল ভিত্তি হচ্ছেখুব বেশী জ্বর এবং এই সঙ্গে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলোর যে কোনো দুটি থাকতে পারে
মস্তিস্কের অগ্রভাগে গুরুতর যন্ত্রণা
চোখের পাস্চাত্ভাগে ব্যথা ও চক্ষু সঞ্চালনে কষ্ট
পেশী ও গাঁটের ব্যথা
বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া
গ্রন্থি ফুলে যাওয়া
আণুবীক্ষণিক পরীক্ষা : পরীক্ষাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে শ্বেত রক্ত কনিকার
সংখ্যা কম ধারা পড়লে গোড়ার দিকের পরিবর্তন সনাক্ত করা যায় এবং তারপর বিপাকীয় অম্লাধিক্যজনিত
বিকার সমন্বিত পরীক্ষার দিকে এগোনো যায়। স্বল্প অনুচক্রিকা ও শ্বেত রক্তকণিকার কারণ
হল যকৃত থেকে নিসৃত উচ্চ পর্যায়ের অ্যামিনো ট্রান্সফেরাস (এ এস টি এবং এ এল টি)।
দ্রুত রোগ
নির্ণয়ের পরীক্ষা : ডেঙ্গু-বিরোধী 1gG ও
1gM অ্যান্টিবডি নির্ধারণ করতে;দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা চমৎকারপদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। স্যাম্পল
বা নমূনার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে 1gG অ্যান্টিবডির উপস্থিতি 1gM অ্যান্টিবডি নির্ধারণ
করতে বাধা দেয় না বা হস্তক্ষেপ করে না। যথেষ্ট শুদ্ধ ডেঙ্গু -প্রোটিনের মিশ্রণ নিয়ে
পরীক্ষা করলে চার পর্যায়েরই ডেঙ্গুর নির্ধারণ সম্ভব।
এই রোগে ব্যথা
নিরামক প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সাহায্য করতে পারে, তবে অ্যাসপিরিন জাতীয ওষুধ এড়িয়ে
চলা উচিত, কারণ এর ফলে খুব খারাপ ধরনের রক্তপাত ঘটতে পারে।যথাযথ বিশ্রাম নিন ও প্রচুর
পরিমানে তরল পান করুন। যদি ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না ঘটে তাহলে আরো ডাক্তারি
পরামর্শ নিন।
একজন মানুষের
মধ্যে ডেঙ্গু রোগটি সাধারণ পর্যায় থেকে জীবন বিপন্নকারী আকার ধারণ করতে পারে--যাকে
গুরুতর বা সিভিয়ার ডেঙ্গু বলা হয়। যদিও এর কারণ এখনো পর্যন্ত অস্পষ্ট, তবুও আগে কখনো
ঘটে থাকা অতীতের ডেঙ্গু-সংক্রমণ এর কারণ হতে পারে। এটি অবশ্য সবার ক্ষেত্রে ঘটে না।
গুরুতরভাবে ডেঙ্গু-আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে আকস্মিক রক্তচাপ কমে যাওয়া আরেক জটিলতার
মধ্যে পড়ে, যা ডেঙ্গু-অভিঘাত লক্ষণ (ডেঙ্গুশক সিন্ড্রোম ) নামে পরিচিত।এই ডেঙ্গু শক
সিন্ড্রোমের উপসর্গগুলো হল:
ঠান্ডা, আঠালো চামড়া
দুর্বল ও দ্রুত নাড়ির স্পন্দন
মুখগহ্বর শুকিয়ে যাওয়া
প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া
দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস
প্রতিরোধ
এখানো পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধের কোনো টিকা নেই। এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উত্তম উপায় হচ্ছে মশার কামড় এড়িয়ে চলা।
কীট-পতঙ্গ বিতাড়ক দ্রব্যের ব্যবহার
মশারির ভিতর ঘুমোনো
বাইরে বেরোনোর সময় ফুল হাতা জামা ও লম্বা পাজামা পরে বেরোনো ও পোশাকে ডি ই ই টি-সমৃদ্ধ মশা তাড়ানোর তরল ছড়িয়ে নেওয়া, বিশেষত: ডেঙ্গু আক্রান্ত জায়গায় যাওয়ার আগে।
মশার বংশ-বিস্তার কমাতে জলের পাত্র ঢাকা দিয়ে রাখা
ডেঙ্গু জ্বর বিষয়ে অধিক জ্ঞান আহরণের জন্যে এই বইটি পড়তে পারেন।
বইটি পড়তে ক্লিক করুন - ডেঙ্গু বিষয়ক পড়াশোনা ও সচেতনা।
যেখানে সেখানে পানি জমিয়ে রাখবেন না, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হবে না।

0 comments:
Post a Comment