মাংসে মাংস বৃদ্ধি, ঘৃতে বৃদ্ধি বল।
দুধে রক্ত বৃদ্ধি, শাকে বৃদ্ধি মল।।
খাবারের পুষ্টি সম্পর্কে বর্তমানে আমরা সকলেই অবগত হচ্ছি। যদি খাবারে বিভিন্ন রকম রাসায়নিক সার সহ কিটনাশকের মাধ্যমে আমরা খাবারকে বৃদ্ধি, বড়,মিষ্টি ও সুন্দর চেষ্টা করার চেষ্টা করায় খাবারের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুন পূর্বের তুলনায় দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তবুও মানুষ নানা রকম রোগে ভোগে খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। তাই এখন নানা রকম স্বাস্থ্যকর ফলমূল সহ বিদেশী পুষ্টিকর খাদ্যও আমাদের দেশে হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে এবং প্রচুর মানুষ তা এখন ক্রয় করে খাচ্ছে। কিন্তু ভালো মানের পুষ্টিকর খাবার কিনে খেয়েও মানুষের যেন রোগ থেকে আর মুক্তি নেই। এর সমস্যায় রয়েছে খাবারের সঠিক সময়। পুষ্টিকর খাবার তো খাচ্ছেন কিন্তু সেই পুষ্টিকর খাবারই আপনার রোগের কারন হয়ে উঠছে না তো?
অনেকেই সুস্থ খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন না প্রায়ই। অথচ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে জীবনযাপন না করলে ওজন নিয়ন্ত্রণ এক কথায় অসম্ভব। এমনকি আপনার ডায়েট কিংবা ব্যায়ামেও কোনো সুফল পাবেন না। যারা সুস্থ সুন্দর জীবন গড়তে চান তাদের উচিত হেলদি লাইফস্টাইল মেনে চলা। অর্থাৎ সময়মতো খাওয়ার অভ্যেস গড়া।
কিন্তু কখন কোন খাবার খাবেন? এ নিয়ে কি সত্যিই কোনো বাধাধরা নিয়ম আছে? না, তেমন বাধাধরা নিয়ম নেই। কিন্তু অধিকাংশ ডায়েট বিশেষজ্ঞ কিংবা পুষ্টি বিশেষজ্ঞ একটি সাধারন রুটিনে একমত হতে পেরেছেন। তারা মনে করেন এই সময়ে নিয়মিত খেলে আপনার ডায়েটের ফলাফল আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। আসুন তবে জেনে নেই কখন কোন খাবার খেতে হবে।
তবে কিছু প্রবাদ থেকে বুঝতে পারি খাবারের ও কিছু সময় লক্ষ করা যায় যা প্রাচীনকালে মানুষ মেনে চলতেন।
প্রবাদ উল্লেখ্য করা যায়- ক্ষীরা দিবায় হীরা, রাত্রিতে পীড়া ।
এই ক্ষীরা বা শষা জাতীয় পানীয় সবজি দিনের বেলায় আহারের জন্য উৎসাহিত করা হলেও রাতে খাবারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
আরেকটা প্রবাদ উল্লেখ্য করা যায়- সকালে কলা স্বর্ণ, দুপুরে রুপা, রাতে বিষ ।
সকালে কলা মানব দেহে কলা স্বর্ণের মত দামি কাজ করে থাকে কিন্তু খালি পেটে নয় অবশ্যই এবং দুপুরে রুপার মত দামি কাজ করে এবং রাতে কলা তো উপকারে আসেই না বং এটা খেলে বদ হজম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম ক্ষতি কারন হয়ে দাঁড়ায়। আমার উদ্দ্যেশ্য কলাকে বিষ হিসেবে প্রমাণ করা নয়। আমার উদ্দ্যেশ্য হলো দিনকে অষ্ট প্রহর হিসেবে ভাগ করে আপনার সঠিক সময়ে সঠিক খাবার গ্রহণ করার ব্যাপারে উদ্ভোদ্ধ করা।
তাই চলুন আপনার সারাদিনের খাবার গুলো কখন কখন খেলে আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত থাকবেন তা সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।
সকালের খাবারঃ
ঘুম থেকে ওঠার আধ ঘণ্টার ভেতর সকালের নাস্তা সেরে ফেলা উচিৎ ।
সকালের নাস্তা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার - এ কথা নতুন কিছু নয়। একটি জনপ্রিয় প্রবাদ আছে সকালের নাস্তা অন্তত রাজার হালে হওয়া উচিত। পেটভরে সকালের নাস্তা করলে সারাদিনের ব্যস্ততার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া মস্তিস্ক ঠিকঠাক কাজ করতে পারে, ক্ষুধামন্দা কম লাগে, ওজনও ঠিক থাকে। এজন্য সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া যাবে না।
কিন্তু সকালের নাস্তায় ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া চলবে না। নাস্তার খাবারে জটিল শর্করা, আমিষ, সবজি, ফ্যাট ইত্যাদি খাবারের ব্যালেন্স বজায় রাখতে হবে। সবসময় সকাল আটটার ভেতর নাস্তা সেড়ে নিতে পারলে বেশি উপকার পাবেন। সকাল আটটার দিকে নাস্তা করার পর ক্ষুধা লাগতেই পারে। সকালের দিকে ব্যস্ততা বেশি থাকে। তাই অনেকের ফুড ক্রেভিং হয়। সেক্ষেত্রে ১০টা কিংবা ১১টার দিকে হালকা নাস্তা করা যেতে পারে। হালকা নাস্তার ক্ষেত্রে ফল-ফলাদির চেয়ে ভালো কোনো খাবার হতে পারে না।
দুপুরের খাবারঃ
দুপুর ১টা কিংবা ২টার মধ্যে দুপুরের খাবার সেরে ফেলতে হবে। তার অধিক সময় অপেক্ষা করলেই আপনার গ্যাসট্রিক জনিত সমস্যা আপনার পীড়ায় পরিনত করতে পারে। তাই চেষ্টা করতে হবে যেনো দুপুর দুইটার আগেই খাবার খেয়ে ফেলতে পারেন।
দুপুরের খাবারেও সকালের খাবারের মতো ব্যালান্স ডায়েট রাখতে হয়। যারা ওজন কমাতে চান তারা জটিল শর্করা দিয়ে মাছ, সবজি খেতেই পারেন।
বিকেলের নাস্তাঃ
বিকেলের নাস্তা করুন ৪টার দিকে।
দুপুরের খাবারের পর খাওয়া-দাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। সন্ধ্যার পর কাজের পরিমাণ কিছুটা কমতে শুরু করে। তাই এ সময় অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে মেদ বাড়ায়। এ সময় হালকা নাস্তা করতে পারেন। যেমন সুগার ফ্রি ক্র্যাকার, টোস্ট, ফলের সালাদ কিংবা স্বাস্থ্যকর পানীয়।
রাতের খাবারঃ
রাতের খাবার হবে রাত ৭/৮ টায়। আমরা অনেকেই মধ্য রাতে খাবারের অভ্যাস তৈরী করে ফেলেছি। যা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই উপকারী নয়। রাতের খাবার খাওয়ার পর দ্রুত বিছানায় যেতে পারলে ঘুম ভালো হবে। রাতের খাবারে যতটুকু সম্ভব শর্করা এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ শর্করা রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলত ঘুমের ব্যাঘাত হতেই পারে। এমনকি এসময় জটিল শর্করাও খাওয়া যাবে না। তবে যদি জটিল শর্করার খাবার খেতেই হয়, ঘুমোনোর ৩-৪ ঘণ্টা আগে খেতে হবে।
সুস্থ থাকুন, খুশি থাকুন।


0 comments:
Post a Comment