
* খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ঃ কিছু খাদ্যাভাসের কারনে আমাদের মুখে গন্ধ হতে পারে। আমরা এমন কিছু খাবার গ্রহণ করে থাকি যে সকল খাবারের জন্য আমাদের মুখে গন্ধ হতে পারে। যেমন - কাঁচা মূলা, কাঁচা পেঁয়াজ, ইত্যাদি।
* মুখের থুথু কমে যাওয়াঃ থুথু মুখের ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন বন্ধ করে কিন্তু রমজানে থুথুর পরিমাণ কমে যাওয়ায় ব্যাকটেরিয়াগুলোর দ্রুত প্রজনন হয়ে থাকে, যা দুর্গন্ধের কারণ হয়।
* শারীরিক রোগঃ শারীরিক কিছু রোগের কারনে মুখে গন্ধ হতে পারে। নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস, পেটের পীড়া, লিভারের সমস্যা, টনসিলজনিত সমস্যা ইত্যাদি।
* সঠিক পদ্ধতিতে দন্ত পরিচর্যা না করাঃ সঠিক পদ্ধতিতে দাঁতের পরিচর্চার অভাবে বেশির ভাগ মানুষের এমন মুখে গন্ধ হয়ে থাকে।
* দীর্ঘসময় ধরে না খেয়ে থাকাঃ দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকলেও এমন মুখে গন্ধ হতে পারে বলে গবেষকরা বলে থাকেন। দীর্ঘ সময় কিছু না খাবারের কারণে ও জিহ্বা পরিষ্কার না করার কারণে জিহ্বার উপর সালফারের প্রলেপ পড়ে মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।
* শরীরে পানি শূন্যতাঃ যেসব খাবার মুখের পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে, তা বেশি খাওয়া। আমরা অনেক সময় কিছু শুকনো খাবার খেয়ে সকালের নাস্তা, বিকালের প্রাতঃ খাবার কিংবা রাতের খাবার কাটিয়ে দেই। পানির প্রয়োজনীয়তা ভুলেই যাই। পানি শূন্যতার কারনে শরীরের নানা প্রকার রোগের সাথে মুখে দূর্গন্ধের মত সমস্যায় ও পড়তে পারি।
*মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ারঃ আমাদের মধ্যে অনেকের তো মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া একটি অভ্যাসগত সমস্যা। কারো কারো এজম্যার মত রোগের কারনে অতিরিক্ত শ্বাস নেবার প্রয়োজনে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়।
ঘুমের সমস্যাঃ আমরা অনেকেই ঘুমের সময় নাক দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস না নিয়ে মুখ দিয়ে শ্বাস নেই। যার কারনে মুখের লালা শুকিয়ে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত আক্রান্ত করে। অনেক সময় ঘুমের সময় মুখ থেকে লালা বের হয় পড়তে দেখা যায় এবং তা থেকেও পড়তে দেখা যায়।
এরকম নানা সমস্যায় মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।
এরকম সমস্যা থেকে উত্তরনে প্রসঙ্গে কথা কিছু নির্দেশিকাঃ
মুখের এ দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে আমরা যেসব ব্যবস্থা নেব-
* দৈনিক কম করে হলেও ৩ থেকে ৪ লিটার পানি খেতে হবে।
* ফলমূল, শাকসবজি, দইজাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত।
* লেবু, জাম্বুরা, কমলা, কামরাংগা, মাল্টা ও আনারসের শরবত পান করা।
* গাজর, শসা, টমেটো, আমড়া ও আমলকি ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখা।
* মুখ ও দাঁতের সঠিক পরিচর্যা করা।
* খাবারের পর ৩০-৬০ মিনিট আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, ব্রাশ করার জন্য যেন প্রাকৃতিক উপায়ে থুথুর মাধ্যমে খাদ্য পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে ও মুখের নরমাল PH বহাল থাকে। খাবারের পরপরই মুখের PH এসিডিক থাকে, খাবার পর থুথু প্রথম মুখের PH নরমাল করে। তাই খাবারের পরপরই দাঁত ব্রাশ করার ফলে এনামেলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অপরদিকে এসিডিক PH -এ ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন হার বেশি।
* অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল মাউথ ওয়াশ যেমন- ০.২ শতাংশ ক্লোরহেক্সিডিন অথবা ০.৫ শতাংশ পভিডোন আয়োডিন প্রতিদিন ৩ বার, ২ চামচ ৩০ সেকেন্ড ধরে প্রতিবার কুলকুচি করতে হবে। গোলাপ জল দিয়ে গার্গল করা যেতে পারে।
* প্রতি রাতে ১ বার ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে হবে।
* মেনথল গাম ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে খাওয়া যেতে পারে।
* নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করা।
* মুখ ও দাঁতের অসম্পূর্ণ চিকিৎসা সম্পন্ন করে নেওয়া, যাতে খাবার না জমতে পারে।
* কোভিড-১৯ জনিত কারণে এখন সবারই সবসময় মাস্ক পরে থাকার অভ্যাস আছে, এজন্য মুখ দিয়ে সবাইকে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তাই সিডিসি গাইডলাইন অনুযায়ী, রোজাকালীন ৪ ঘণ্টা পরপর মাস্ক পরিবর্তন করতে হবে। পুনরায় ব্যবহারকৃত মাস্কগুলো ৪ ঘণ্টা পর প্লাস্টিকের ডাস্টবিনে রাখতে হবে পরে ধুয়ে পরতে হবে। রুমে একা থাকার সময় মাস্কবিহীন থাকা ভালো।
যেসব বিষয় বর্জন করে চলতে হবে।
* পিঁয়াজ, রসুন, মরিচ ইত্যাদি খাদ্যের মধ্যে যে কেমিক্যাল থাকে তাহা রক্তবাহিত হয়ে প্রথমে ফুসফুসে আক্রমণ করে পরে তা প্রশ্বাসের মাধ্যমে বেরিয়ে এসে গন্ধের সৃষ্টি করে।
* ধূমপান পরিহার করতে হবে।
* খাবার সোডা ও কার্বোনেটেড ফলের রসে উচ্চমাত্রায় চিনি থাকে তাই এগুলো পানিশূন্যতার সৃষ্টি করে।
* মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বর্জন করতে হবে।
এমন কিছু প্রয়োজনীয় খাদ্যাভ্যাস গুলো মেনে চললে ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় গুলো বর্জন করে চলতে পারলে আমাদের মুখের দুর্গন্ধ থাকবেনা, আমরা থাকবো সুস্থ,সবল ও রোগ মুক্ত।
পরিশেষে ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
0 comments:
Post a Comment