অধ্যায়-৪
থ্রেড ফ্যাসটিং ডিভাইস এর অংকন
৪.১ স্ক্রু থ্রেড সম্পর্কিত টার্মিনোলজিগুলো সংঙ্গা এবং
বর্ননাঃ
চিত্র হবে
স্ক্রু থ্রেডঃ কোন নির্দিষ্ট সুষম শিরদেশ হেলিক্স আকারে
কন সিলিন্ডার এর বাইরের অথবা ভিতরের তলের প্যাচানো থাকলে তাকে স্ক্রু থ্রেড বলে।
স্ট্রেইট থ্রেডঃ কোন সিলিন্ডার আকৃতি তলের উপর থ্রেড গঠিত হলে তাকে স্ট্রেইন থ্রেড বলে।
টেপার থ্রেডঃ কোন শংকু আকৃতি তলের উপরে থ্রেড গঠিত হলে
তাকে টেপার থ্রেড বলে।
বাহ্যিক থ্রেডঃ
কোন সিলিন্ডার বা কোণ এর বাহির তলে থ্রেড গঠিত হলে তাকে বাহ্যিক থ্রেড বলে।
অভ্যন্তরীন থ্রেডঃ
কোন সিলিন্ডার বা কোণ এর ভিতরের তলে থ্রেড গঠিত হলে তাকে অভ্যন্তরীন থ্রেড
বলে।
ডান হাতি থ্রেডঃ
একটি স্ক্রু থ্রেড কে ঘরির কাটার দিকে ঘুরালে যদি এটা নিজ অক্ষ বরাবর
সামনের দিকে অগ্রসর হয় তখন এটিকে ডান হাতি থ্রেড বলে।
বাম হাতি থ্রেডঃ
একটি স্ক্রু থ্রেড কে ঘরির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরালে যদি এটা নিজ অক্ষ
বরাবর সামনের দিকে অগ্রসর হয় তখন এটিকে বাম হাতি থ্রেড বলে।
নমিনাল বা বোল্ট ডায়ামিটারঃ স্ক্রু থ্রেড তোইরি হয়ার
পুর্বে বোল্ট স্ক্রুর যে ব্যাস বা ডায়ামিটার থাকে তাকে নমিনাল বা বোল্ট ডায়ামিটার
বলে।
মেজর ডায়ামিটারঃ একটি স্ক্রু থ্রেডের সর্বোচ্চ ব্যাসকে
মেজর ডায়ামিটার বলে।
মাইনাল ডায়ামিটারঃ একটি স্ক্রু থ্রেডের সর্বনিম্ন
ব্যাসকে মাইনাল ডায়ামিটার বলে।
পিচ ডায়ামিটারঃ স্ট্রেইট স্ক্রু থ্রেডের ক্ষেত্রে একটি
কাল্পনিক সিলিন্ডারের ব্যাসকে পিচ ডায়ামিটার বলা হয়। যেখানে কাল্পনিক সিলিন্ডারের
তল থ্রেডের গভিরতাকে এমন ভাবে ছেদ করে যাতে স্ক্রু থ্রেডের থ্রেড অংশ এবং ফাকা
অংশের প্রশস্ততা সমান থাকে।
অক্ষঃ স্ক্রু থ্রেডে যে সিলিন্দার বা কীণের তলের উপরে
গঠিত হয় তার কেন্দ্র রেখাকে অক্ষ বলে।
পিচঃ থ্রেড অক্ষ বরাবর দুটি পর পর থ্রেডের মধ্যে থ্রেডের
উপরকার একই অবস্থানের দুরত্তকে পিচ বলে।
ক্রেস্টঃ স্ক্রু থ্রেডের সন্নিহিত দুইটি প্বার্শ ভাগকে
উপরের দিকে যে প্রান্ত বা সরুতল যুক্ত করে থাকে ক্রেস্ট বলে।
রুটঃ দুইটি পর পর থ্রেডে হেলানো পার্শ্বদ্বয়কে নিচের
দিকে যে প্রান্ত বা সরু তল যুক্ত করে তাকে রুট বলে।
থ্রেড এর গভীরতাঃ থ্রেডের অক্ষের সমকোণে ক্রেস্ট বা রুট
এর মাধ্যকার দুরত্বকে থ্রেড এর গভীরতা বলে।
থ্রেড এর কোণঃ থ্রেডের হেলনো পর পর দুটি তলের মধ্যকার
কৌনিক দূরত্তকে থ্রেড এর কোন বলে।
হেলিক্স কোনঃ স্ক্রু থ্রেড যে পরিমানে সিলিন্ডার বা
কোণের তলের উপর প্যাঁচানো থাকে তাকে হেলিক্স কোন বলে।
সিঈল থ্রেডঃ একটি নির্দিষ্ট আকৃতির থ্রেড কীন সিলিন্ডার
বা কোণ এর উপর একটি হেলিক্স তৈরি করলে
তাকে সিঈল থ্রেড বলে।
মাল্টিপল থ্রেডঃ একটি টি নির্দিষ্ট আকৃতির থ্রেড কীন
সিলিন্ডার বা কোণ এর উপর একাধিক হেলিক্স
তৈরি করলে তাকে মাল্টিপল থ্রেড বলে।
লীডঃ একটি থ্রেডযুক্ত যন্ত্রাংশকে এর সাথে
সামঞ্জস্যপূর্ন থ্রেডযুক্ত অপর একটি স্থির যন্ত্রাংশের উপর পূর্ন এক পাক ঘুরালে
প্রথমে যন্ত্রাংশটি অক্ষ বরাবর তার অবস্থানের যে রৈখিক সরন ঘটায় তাকে লীড বলে।
সিঈল থ্রেডের জন্য পিচ এবং লীড সমান কিন্তু মাল্টিপল
থ্রেডের জন্য লীড পিচের গুনিতক।
লীদ = পিচভ × ২
লীড = পিচ × ৩ ইত্যাদি।
৪.১ বিভিন্ন প্রকার স্ক্রু থ্রেডের বর্ণনাঃ
স্ক্রু থ্রেডের অনেক প্রকার হয়ে থাকে যথাঃ-
১। 'ভী' থ্রেড
২। স্কয়ার থ্রেড
৩। একমি থ্রেড
৪। বাট্রেস থ্রেড
৫। নাকল থ্রেড
চিত্র হবে
৪.৩ ব্যাবহারিক রীতি দেখিয়ে সঠিক অনুপাতে সহজ আকৃতির
স্কয়ার/হেক্সাগোনাল মাথা বিশিষ্ট বোল্ট এবং নাট অংকনঃ
ষট কোণ নাটের আকৃতির মাপঃ নাটের মাপ যদি D
হয় তাহলে এর আনুমাতিক মাপ-
নাটের উচ্চতা = D মাট্রিক
মাপ স্থলে-
সমান্তরাল পার্শ্বভাগ দুইটির ব্যাবধান = 1.75 নাটের উচ্চতা = 0.8D
বিপরিত কোণ দুটির ব্যাবধান = 2D সমান্তরাল
পার্শ্বভাগ দুটির ব্যাবধান = 1.3D+3mm
ঢাল সূচক রেখার কোণ = 300 বা 450
ঢালের বৃত্তচাপ অঙ্কনের ব্যাসার্ধ = 12D বা 1.5D ( ব্যাবহারিক ড্রয়িং এর অনেক স্থলে
এটি কেবল D লওয়া হয়ে থাকে )
প্রথম কোণীয় প্রজেকশন নীতিতে ষট কোণ নাট অঙ্কন প্রনালী।
চিত্র হবে
প্রথমে প্লান অংকন করার জন্য সমকোণে ছেদ করায়ে আনুভূমিক
এবং উলম্ব দুটি কেন্দ্ররেখা টানতে হয়। এদের ছেদ বিন্দু O। পরে, এই O
কে কেন্দ্র এবং D অর্থাৎ নাটের মাপে ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি
বৃত্ত অংকন করে [চিত্রঃ৪.৩ (১) ] এর মধ্য PQRSTU একটি
ষড়ভূজ অন্তলিখিত করতে হবে। এই ষড়ভূজ প্রত্যেক্টি বাহু, ডায়ামিটার D এর সমান হবে[ চিত্রঃ৪.৩ (২) ]। এখন O কে
কেন্দ্র করে ওই ষড়ভূজ এর প্রত্যেক্টি বাহুকে ভিতরে দিকে স্পর্শ করায়ে ঢাল সূচক
একটি বৃত্ত অংকন করতে হবে। পূনরায় এই O কে কেন্দ্র এবং D
এর অর্ধেক ব্যাসার্ধ নিয়ে ছিদ্র রেখা দ্বারা আর একটি বৃত্ত অঙ্কন করতে হবে। ইহা নাটের
মধ্যস্থিত স্ক্রু থ্রেডের ভিতরের ডায়ামিতার বা বোল্টের বাইরের ডায়ামিটারকে সূচিত
করবে। ইহা আনুভূমিক কেন্দ্র রেখাটিকে V ও W বিন্দুতে ছেদ করে। [ চিত্রঃ৪.৩ (৩) ]
এই ছন্ন রেখার বৃত্তের পরিবর্তে [ চিত্রঃ৪.৪ ] এর
ন্যায় সরু পুর্ন রেখা দ্বারা তিন-চতুর্থাংশ পরিমান একটি অসম্পূর্ন বা ভগ্ন-বৃত্ত
অঙ্কন করা রীতিও চলিত আছে।
এবার সম্মুখ এলিভেশন দৃশ্য অঙ্কনের জন্য ষড়ভূজটির QR
বাহুর ঊর্ধে EF একটি আনুভূমিক রেখা টেনে ষড়ভূজটির
প্রত্যেকটির কোন বিন্দু হতে এবং ভেতরের বৃত্তটির দুই প্রান্ত V ও W হতে উপরের দিকে উলম্ব প্রজেকশন রেখা
টান্তে হবে। রেখাগুলো পরস্পর মিলে যাওয়ার ফলে শেষ পর্যন্ত মোট চারটি রেখা পাওয়া
যাবে। PV এবং WS এর দৈর্ঘ D মাপের অর্ধ। এখন EF রেখা হতে D মাপ ঊর্ধে এর সমান্তরাল রুপে GH একটি সরল রেখা টান্তে হবে। এটা উলম্ব কেন্দ্র রেখাটিকে যে বিন্দুতে ছেদ
করে তা হতে নিচের দিকে ঐ কেন্দ্র রেখার
উপর D এর 1
গুন স্মান দৈর্ঘ কেটে নিতে হয়।
পরে, এই ছেদ বিন্দুকে কেন্দ্র এবং ঐ একই মাপকে ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্তচাপ অঙ্কন
করলীটা Q এবং R হতে টানা প্রজেকশন রেখা
দুটিকে যথাক্রমে J ও K বিন্দু ছেদ
করবে। J,K কে যুক্ত করায়ে একটি সরল রেখা টেনে এটাকে
উভয়দিকে বর্ধিত করতে হব। এটা EG ও FH রেখাকে যথাক্রমে L ও
M বিন্দুতে ছেদ করবে। [ চিত্রঃ৪.৩ (৪) ]
এবার LJ ও KM রেখাকে সমদ্বখন্ডিত করিয়ে লম্ব টানলে এটা GH
রেখাকে N বন্দুতে ছেদ করেবে। এখন এই লম্ব দ্বিখন্ডকটির
উপর কেন্দ্র রেখা এবং L, N ও J বিন্দু
তিনটির মধ্য দিয়ে একটি বৃত্তচাপ ইঙ্কন করতে হবে। অনুরুপভাবে KM স্থানে একই ব্যাসার্ধ দ্বারা একটি বৃত্তচাপ অঙ্কন করতে হবে।[চিত্র (৫)]
এখন LJ ও KM স্থানে অঙ্কিত
বৃত্তচাপ দুটিকে স্পর্শ করিয়ে 300 কোণে স্পর্শক
রেখা টান্তে হবে। এটা ঢাল সূচক রেখা
[চিত্র (৫)] ।
এবার স্ক্রু থ্রেডের কোর ডায়ামিটার মাপ নেয়ার জন্য D মাপের
অর্ধ হতে থ্রেডের গভিরতা মাপ বিয়োগ করতে হবে এবং এই বিয়োগফল মাপ সমান ব্যাসার্ধ
নিয়ে পূর্বাঙ্কিত প্ল্যানে অর্থাৎ [চিত্র (৪)] এ পূর্ন রেখা দ্বারা একটি বৃত্ত
অঙ্কন করতে হবে।
এখন এই বৃত্তটি এবং পূর্বাঙ্কিত ছিন্ন রেখা বা পূর্ন রখা ভগ্ন বৃত্ত টি উভয় প্রান্ত হতে প্রজেকশন রেখা টেনে সম্মুখ
এলিভেশিনে চারটি ছিন্ন রেখা টানতে হবে। কারন
এটা বহির হতে দেখা যায় না। শেষে সম্পাদনী রেখাগুলোকে মুছে ফেললে [চিত্র
(৭)] নাটটির অঙ্কনীয় প্ল্যান ও সমুখ এলিভেশন হবে।
চিত্র হবে
এবার বাম প্রান্তিক দৃশ্য অঙ্কনের জন্য প্ল্যান বা
সম্মুক এলিভেশনের [চিত্র ৯.২৫] প্রত্যেকটি কোন বিন্দু হতে সাধারন নিয়ম
অনুযায়ী 450
কোণে অঙ্কিত রেখার মাধ্যমে উল্লম্বপ্রজেকশন রেখা টানায় এতে ভূমির
কোণ বিন্দু তিনটি QR, PS, UT হবে। যেহেতু প্ল্যানে QR,
UT রেখা দুটির ব্যাবধান = ষড়ভূজের দুটি বিপরীত
সয়ান্তরাল বাহুর দুরত্ত এবং এটা D এর ১.৭৫
গুন মাপের সমান সুতরাং বাম প্রান্তি দৃশ্য এই QR-PS, PS-UT রেখা
দৈর্ঘ D এর প্রায়
গুন হয়।
এখন
QR-PS, PS-UT
এই রেখা দুটি লম্ব দ্বিখন্ডক টেনে D এর ১.২
গুন দৈর্ঘ্য মাপে ব্যাসার্ধরুপে [চিত্র (৫)] এর প্রণালীতে উভয় দিকে দুটি বৃত্তচাপ
অঙ্কন করতে হবে। [চিত্র (৯)]।
তারপর নাতের মধ্যস্থিত স্ক্রু থ্রেড ও ছিদ্রর জন্য কেন্দ্র রেখা উভয় দিকে
ছিদ্রের ব্যাসার্ধ মাপ দূরে স্ক্রু থ্রেডের অউট সাইড ডায়ামিটার বা বাইরের ব্যাস
সূচক দুটি এবং এটা হতে স্ক্রু থ্রেডের গভীরতা মাও ভেতরের দিকে স্ক্রু থ্রেডের কোর
ডায়ামিতার সূচক দুটি, মোট চারটি ছিন্ন সরল
রেখা টেনে সম্পাদনী রেখা গুলিকে মুছে ফেললে [চিত্র (১০)] অঙ্কনীয় বাম প্রান্তিক
দৃশ হবে।
চতিস্কোণ নাটের আনুপাতিক মাপঃ নাটের
মাপ যদি D হয় তবে এর আনুপাতিক মাপ-
নাটের উচ্চতা = D ( মেট্রিক মাপ হলে এটা = ১.৫ হবে )
সমান্তরাল পার্শ্বভাগ দুটির ব্যাবধান = 1
বা স্থূল ভাগে = 1
। ( মেট্রিক মাপ হলে এটা = ১.৫ – ১.৫ মি.মি হবে )
ঢাল সূচক রেখা কোণ = 300 ঢালের বৃত্তচাপ অঙ্কনের
ব্যাসার্ধ = 1
বা 2D
যাকে
একই স্প্যানার দ্বারা ষটকোণ এবং চতুস্কোণ উভয় প্রকার নাটকে ধারন করা যায়, এই
উদ্দেশ্যে অনেক ক্ষেত্রে চতুস্কোণ নাটের সমান্তরাল পার্শ্বভাগ দুটির ব্যাবধানকে
ষটকোণ নাটের সমান্তরাল পার্শ্বভাগ দুটির ব্যাবধানে সমান করে তৈয়ার করা হয়ে থাকে।
চিত্র হবে
0 comments:
Post a Comment