Tuesday, January 17, 2017

অধ্যায় ৩। অবলিক ড্রয়িং (ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বই কোড ৬৭৪৩ )

               অধ্যায় ৩                 
                          অবলিক ড্রইং
৩.০ ভূমিকাঃ
বস্তুর প্রধান একটি তলকে প্রকৃত মাপে রেখেওংকন কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে অবলিক ড্রইং এর ব্যাবহার ড্রাফটম্যানের নিকট প্রথম পছন্দনীয় পদ্বতির মধ্যে অন্যতম। কাওন এ ক্ষেত্রে একটি মাত্র দৃশ্য তথা সম্মুখদৃশ্য দ্বারাউ বস্তুটির পরিমাপ সম্পর্কে সম্যক ধারনা পাওয়া যায়। অর্থাৎ অবলিক ড্রইং এর মাধ্যমে সরল গঠন বিশিষ্ট ঘনবস্তুর দৈর্ঘ প্রস্থ ও উচ্চতাকে একটি মাত্র দৃশ্য দেখানো সম্ভব হয়ে থাকে।
ফলে কেবল মাত্র একটি দৃশ্য তথা সম্মুখদৃশ্য থেকেই বস্তুর প্রকৃত মাপ পাওয়া যায়।
অবলিক দৃশ্য অংকন করা অপেক্ষাকৃত সহজ, কেননা এতে বস্তুর সম্মুখদৃশ্য অবিকল মাপে পাওয়া যায়।
আলোচ্য অধায়ে অবলিক ড্রইং অংকনের বিভিন্ন কৌশল, বিভিন্ন বস্তু বা যন্ত্রাংশে অবলিক দৃশ্য অঙ্কন সহ প্রয়োজনীয় বর্ননা সনিন্নেশ করা হয়েছে।
৩.১ অবলিক ড্রইংঃ
অবলিক ড্রইং সাধারনত অবলিক প্রজেকশন পদ্বতিতে অংকন করা হয়। এ পদ্বতিতে বস্তুর পৃষ্ঠতলের সমান্তরালের তিনটি অক্কের অনুসরনের দৃশ্য অংকন করা হয়। অক্ষ তিন্টির মধ্য একটি অনুভূমিক, একটি খাড়া এবং অপরটি ৪৫ কোণে ডানে বা বামে আনত অবস্থায় থাকে।
বস্তুর প্রধান পৃষ্ঠতল্কে উলম্ব অক্ষ এর সমান্তরান রেখে বস্তুর প্রকৃত মাপ নিয়ে সম্মুকদৃশ্য অংকন করে পরে অপর দুটি অক্ষে সমান্তরালে রেখা টেনে যে দৃশ্য অংকন করা হয় তাকে অবলিক দৃশ্য বলে। অবলিক দৃশ্য অংকন পস্বতিকে অবলিক ড্রইং বলে। অবলিক ড্রইং এ আইসোমেট্রিক দৃশ্য ন্যায় একটি মাত্র দৃশ্য থেকে বস্তুর তিনটি পৃষ্ঠ তলের পরিমাপ যেমনঃ দৈর্ঘ, প্রস্থ, উচ্চতাকে দেখানো যায় এবং তাতে পরিমাপ বসানো যায়।
৩.১.১ অবলিক ড্রইং অঙ্কনের নীতি ও পদ্বতিঃ
চিত্র হবে
প্রকৌশল অংকনের ক্ষেত্রে বস্তুকে সহজবোধ্যভাবে অন্যের  নিকট প্রকাশ করার ক্ষেত্রে অবলিক ড্রইং এর ব্যাবহার অনস্বীকার্য। অবলিক দৃশ্য তীর্যকভাবে অংকিত রেখা গুলো প্রকৃত মাপে অংকন না করে প্রকৃত মাপের অর্ধেক বা এক চতুর্থাংশ দৈর্ঘ্যে অংকন করা হয়।
সকল অবলিক দৃশ্য একটি তলকে সব সময় প্রকৃত আঁকারে অংকন করা হয়। সাধারনত লম্বা তলটি অথবা জটিল তলটি সর্বদা সম্মুখদৃশ্য হিসাবেপ্রকৃত দৈর্ঘ্যের অর্ধেক এক চতুর্থাংশ দৈর্ঘ্যে অংকন করা হয়।
অবলিক দৃশ্য অংকন করার সময় সামনের তলটি উলম্ব তলের সমান্তরাল  রেখে পার্শ্বতলটি ৩০, ৪৫, ৬০ ইত্যাদি যে কোন কোণে অংকন করা হয়, তবে ৪৫ কোণে অংকন করাই অধিক যুক্তিযুক্ত।
চিত্র হবে
·         অবলিক অক্ষঃ
অবলিক অক্ষ হল তিনটি সরল রেখা যার দুটি সর্বদা লম্বা অবস্থানে থাকে এবং অপরটি আনুভুমিক রেখা এর সাথে যে কোনে কোণে অবস্থান করে। অক্ষগুলো অবস্থান ড্রইং শীটে স্থির না হলেও দুটি অবশ্যই ৯০ কোনে স্থির অবস্থানে থাকে। নিচের চিত্রে ভিবিন্ন অবস্থানের জন্য অবলিক অক্ষ দেখানো হল।
চিত্র হবে
·         ঘনকের অবলিক ড্রইংঃ
নিচের চিত্রের সাধারন বলিক ড্রইং এর বিভিন্ন ধাপ দেখানো হল। প্রথম ধাপে দুটি লম্ব অক্ষকে ড্রইং শীটে এঁকে তাতে নির্দিষ্ট পরিমাপ বসানো হয়। পরবর্তী ধাপে অপর অক্ষটি আনুভূমিক রেখার সাথে যে কোন কোণে এঁকে তাতে যথাযথ পরিমাপ বসানো হয়।
তৃতিয় ধাপে বস্তুর বাকি প্রান্ত অবলিক অক্ষের সমান্তরাল এঁকে ড্রইং চুরান্ত করা হয়।
চুরন্ত ড্রইং এর বিচ্যুতি, যা প্রাই ঘটে থেকে, তা দ্রিভুতকরণের লক্ষ্যে সর্বশেষ অক্ষ তথা  আনত অক্ষের দৈর্ঘ্যেকে ছোট আকারে আঁকা হয়। যদি আনত অক্ষের কোণ ৪৫ এবং পুর্ন স্কেল হয়, তবে উক্ত ড্রইং কে ক্যাভেলিয়ার স্টাইল বলে। তবে যখন কোণ ৪৫ এবং গভীরতার অর্ধস্কেল হয়, তখন উক্ত ড্রইং কে কেবিনেট ড্রইং বলে।
চিত্র হবে
সাধারন নিয়ম হল অধিক সৈন্দর্য সৃষ্টির লক্ষ্যে আনত অক্ষকে ছোট স্কেলে ধরে অবলিক ড্রইং সম্পন্ন করা।
৩.২ অবলিক বৃত্ত অংকনঃ
যখন সংশ্লিষ্ট অক্ষগুলো পুর্নস্কেলে হয় তখন নিম্ন রুপ চারটি ধাপে অবলিক বৃত্ত অংকন করা হয়। এ পর্যায়ে প্রথমত একটি অবলিক বর্গক্ষেত্র অংকন করে চারটি কেন্দ্র বিন্দু নির্নয় করা হয়। উক্ত চারটি বিন্দুকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় ব্যাসার্ধ নিয়ে বৃত্তচাপ অংকন করা হয়। এভাবে চারটি বৃত্তচাপের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় উপবৃত্তটি অংকিত হয়।
চিত্র হবে
আংশিক উপবৃত্তের জন্য প্রয়োজনীয় অংশের কেন্দ্র বিন্দু নির্ধারন করে এবং ইন্টারসেক্টিং বিন্দুর স্থানান্তর ঘটিয়ে অংকন করা হয়।
চিত্র হবে
আনত তলের ক্ষেত্রে উপবৃত্ত অংকনের নিচের চিত্রে প্রদর্শিত পদ্বতি প্রয়োগ করা হয়।
চিত্র হবে
৩.৩ আর্থোগ্রাফিক দৃশ্য থেকে অবলিক দৃশ্য অংকনঃ
১। আর্থোগ্রাফিক দৃশ্য থেকে বস্তুর আঁকার  ও অনুপাত সম্পর্কে চিন্তা করা।
২। মনের ভিতর বস্তুটি ছবি তৈরি করা এবং কোন অবস্থানে ছবিটি সর্বোচ্চ ফুটে উঠবে, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা।
৩। কোন ধরনের পদ্ধতিতে অংকন কাজ করা হবে , সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা।
৪। যথাযথ সাইজের পেপার নেয়া।
৫। তারপর নিম্নে পধতিতে আইসোমেট্রিক দৃশ্য অংকন করা।
চিত্র হবে
৩.৪ পূর্নমাত্রা অবলিক ড্রইংঃ
পূর্নমাত্রা অবলিক ড্রইং এর ক্ষেত্রে একথা অবশ্যই স্বরন থাকতে হবে যে, সরলরেখা, কোণ, বৃত্ত, বৃত্তাংশ এবং অসম বক্ররেখা প্রকৃত মাপে অঙ্কন করাই নিয়ম। খুবই গুরুত্তপূর্ন অংশের প্রকৃত পরিমাপ দেখানোর ক্ষেত্রে বস্তুর শুধু ঐ অংশের কর্তিত দৃশ্য অংকন করে বাকি অংশের  সাধারন অবলিক দৃশ্য অংকনের মাধ্যমে দেখানো হয়।
পূর্নমাত্রা অবলিক দৃশ্য অংকনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত নীতিসমূহ অনুসরন করা হয়ঃ
১। অবলিক ড্রইং এর পরিমাপসমূহ যতদুর সম্ভব শীটের নিচে এবং ডানপ্বার্শ থেকে ধরা হয়।
২। পরিমাপ রেখা এবং বর্নিত রেখা একই অনলিক তলে রাখা হয়।

৩। একমাত্র উল্লম্ব লেটারিং এবং নাম্বারিং ব্যাবহার করা হয়।

0 comments:

Post a Comment