বিষয় কোড- ৬৭৪৩
ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং
অধ্যায় - ২
২.০ সূচনাঃ
আইসোমেট্রিক ড্রইং পদ্বতিতে সরল গঠন বিশিষ্ট ঘন বস্তুর দৈর্ঘ্য এবং উচ্চতাকে
একটি মাত্র দৃশ্য অঙ্কনের মাধ্যমে দেখানো যায়। এ পদ্বতির প্রধানতম বৈশিষ্ট হল সহজ
অঙ্কন প্রনালী এবং কম সময়সাপেক্ষ। দ্রুত নকশা অঙ্কনের ক্ষেত্রে এই পদ্বতি বিশেষ
উপযোগী হয়ে থাকে। আইসোমেট্রিক দৃশ্য বস্তুর উলম্ব ধারণা গুলোকে উল্লম্ব রেখে
আনুভূমিক ধারগুলোক পরস্পরের সাথে ১২০০ কোণে অর্থাৎ আনুভূমিক রেখার সাথে
৩০০ কোণে অঙ্কন করা হয়। ফলে, এতে বস্তুটির কেবল দুটি পার্শ্বতল এবং
উপরের তলটি দৃষ্টি গোচর হয়। ফলে, সাধারন ব্যাক্তি মাত্রই এ প্রকার দৃশ্য দেখে
বস্তুর রুপ সম্পর্কে সহজে ধারণা লাভ সম্ভব হয়।
চিত্র হবে
প্রকৌশল অংকনের ক্ষেত্রে কোন বস্তুকে সহজ ভাবে উপস্থাপন করা
এবং সহজেই বস্তুর প্রকৃত রুপ তুলে ধরার জন্য আইসোমেট্রিক দৃশ্য কোন
বিকল্প নেই।
আলোচ্য অধ্যায়ে বস্তুর আইসোমেট্রিক ড্রইং এবং তার যথাযথ অংকন সম্পর্কে
বস্তুনিষ্ট আলোচনা করা হচ্ছে।
২.১ আইসোমেট্রিক ড্রইংঃ
আইসোমেট্রিক (Isometric) শব্দটি গ্রীক শব্দ iso অর্থ
সমান এবং metric অর্থ পরিমাপ থেকে এসেছে। সে অর্থে এ অংকন
পদ্বতির মাধ্যমে ছবি অংকনের ক্ষেত্রে তিনটি সমান অক্ষ অবলম্বন করা হয়, যার প্রতিটি
কোণই সমান। অর্থাৎ একটি অক্ষ থেকে অপরটি
সমান কোণ ১২০০ কোণে অবস্থিত।
অক্ষ তিনটির মধ্য একটি উল্লম্ব এবং দুটি অনুভূমিক তল থেকে ৩০০ কোণে
ডান অ বাম দিকে আনত তলে অবস্থিত। বস্তুর সকল পৃষ্ঠতল এ তিনটি অক্ষের কোন একটির
সমান্তরালে অংকিত করার পদ্বতিকে আইসোমেট্রিক ড্রইং বলে।
আইসোমেট্রিক যে সব লাইন টানা
হয়ে থাকে তার বৈশিষ্ট হলঃ
১। বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সমান্তরাল লাইন আইসোমেট্রিক অক্ষের সাথে সমান্তরাল
অবস্থান করবে।
২। বস্তুর খাড়া লাইন গুলো আইসোমেট্রিক ড্রইং এ খাড়া ভাবে অবস্থান করবে।
৩। বস্তুর আনুভূমিক লাইন গুলো আইসোমেট্রিক ড্রইং এ ভূমি বা আনুভূমিকের সাথে ৩০০
কোণে আনত তলে অবস্থান করবে।
এ পদ্বতিতে অক্ষ এবং তলসমূহ ৩০০ কোণে আনত তলে থাকে, তাই এদের মাপ
প্রকৃত মাপ অপেক্ষা কিছু ছোট দেখায়। ফলে দৃশ্য অংকনের ক্ষেত্রে বস্তুর যে কোন
পৃষ্ঠে বৃত্ত উপবৃত্ত এ রূপান্তরিত হয়। আইসোমেট্রিক দৃশ্য দৈর্ঘ, প্রস্থ, উচ্চতা
কতটা হ্রাস পাবে তা আইসোমেট্রিক স্কেল ব্যাবহার করে নির্ণয় করা হয়।
২.১.১ আইসোমেট্রিক ড্রইং এর
সংঙ্গা ও ব্যাখ্যাঃ
আইসোমেট্রিক প্রজেকশন এর মাধ্যমে আইসোমেট্রিক স্কেল ব্যাবহারে কোন বস্তুর যে
দৃশ্য অংকিত হয় তা বস্তুর প্রকৃত দৈর্ঘ থেকে খানিকটা হ্রাস পায়। যদি সিহিজ অংকনের
সুবিধার্থে এমাপের তারতম্যকে উপেক্ষা করা হয়, তথাপিও আইসোমেট্রিক প্রজেকশেনের
অখত্রয়কে ঠিক রেখে অংকনকেই আইসোমেট্রিক ড্রইং বলে।
আইসোমেট্রিক অক্ষ রেখার উপর বস্তুর প্রকৃত মাপ নিয়ে যে দৃশ্য আঁকা হয় তাকে
আইসোমেট্রিক ড্রইং বলা হয়। আইসোমেট্রিক ড্রইং এর প্রদর্শিত বস্তুর দৃশ্যকে আইসোমেট্রিক দৃশ্য বলা হয়।
আইসোমেট্রিক ড্রইং এর অংকিত চিত্র আইসোমেট্রিক প্রজেকশনে অংকিত চিত্র থেকে
প্রায় ২২% বড় হয়। আইসোমেট্রিক ড্রইং এ বস্তুর যে সলল দৃশ্য পরিস্ফুটিত হয় তাকে
আইসোমেট্রিক দৃশ্য বলে। আইসোমেট্রিক দৃশ্য সাধারনত বস্তুর সম্মুখ পার্শ্ব এবং
উপরিতল নিয়ে গঠিত হয়। ফলে এইরুপ দৃশ্য সহজেই বস্তু বা এর আকার আকৃতি সম্বন্ধে
পূর্নাঙ্গ ধারনা লাভ করা যায়।
২.১.২ আইসোমেট্রিক ড্রইং এর
মূলনীতিঃ
একটিও ঘনকের সাহায্য এর মূলনীতি আলোচনা করা যায়। ধরা যাক ঘনকটি এর একটি
পৃষ্ঠতলের উপর ভর করে আনুভুমুক তলের উপর এমন ভাবে অবস্থিত যে এর লম্ব পৃষ্ঠতল
উল্লম্ব তলের সাথে ৪৫০ কোণ উৎপন্ন করে। এ অবস্থায় ঘনকটিকে যদি এর
সম্মুখে কোন বিন্দুর উপর ভর করিয়ে এমনভাবে হেলানো হয় যে, এর সলিড কর্ন আনুভূমিক
তলের সমান্তরাল বা উল্লম্ব তলের উপর লম্ব হয়। এক্ষেতে এর সম্মুখ অ্যালিভেশন নিচের
চিত্রের ন্যায় হব। এ নূতির আলোকেই আইসোমেট্রিক ড্রইং অংকন করা হয়। এরুপ নীতির
মাধ্যমে দৃশ্য অঙ্কনকেআইসোমেট্রিক ড্রইং বলে।
চিত্র হবে
অপরের অংকিত চিত্র
হতে প্রতিওমান হয় যে-
(ক) ঘনকটি প্রতিটি পৃষ্ঠতল উলম্ব তলের সাথে সম ভাবে নত হয়ে
আছে। এবং এর আকার সদৃশ্য এবং বর্গক্ষেত্রের পরিবর্তে রম্বস হয়েছে।
(খ) ঘনকটির ঘন-সমকোনে তিনটি ধার সূচক BA, BC, ও BG রেখা তিনটি উল্লম্ব তলের সাথে নত হয়ে আছে এবং
এর ফলে এ রেখা তিনটির দৈর্ঘ্য অপেক্ষা ক্ষুদ্র তর হয়েছে। এছাড়া রেখাগুলো বন্দুতে পরস্পরের সাথে ১২০০ কোন
উৎপন্ন করেছে এবং BG রেখাটি আনুভূমিক তলের উপর লম্ব
ভাবে স্থিত বলে BA ও BC রেখাদুটি
অনুভূমিক তলের সাথে ৩০০ কোণ উৎপন্ন করেছে।
(গ) ঘনকটির অন্য ধারসূচক রেখাগুলো পূর্বোক্ত BA, BC, ও BG রেখা তিনটি যে কোন একটি সমান্তরাল। ফলে তাদের
পরিমাপও ক্ষুদ্রতর হয়েছে।
(ঘ) AC কর্নটি উলম্ব তলের সমান্তরাল।
এ কারণে এর দৈর্ঘ্য প্রকৃত দৈর্ঘ্য সমান হয়েছে।
ঘনকটির B বিন্দুতে মিলিত BA, BC,
ও BG যেরেখাগুলো বন্দুতে পরস্পরের সাথে ১২০০
কোন উৎপন্ন করে, এদের আইসোমেট্রিক অক্ষ বলা হয়। কারণ দৃশ্যর অক্ষরেখাগুলোকে মূলত এদের
সমান্তরাল করেই টানা হয়ে থাকে। অক্ষের সমান্তরাল রুপে টানা এ সকল রেখাকে
আইসোমেট্রিক রেখা বলে।
২.২ আইসোমেট্রিক বৃও অংকনঃ
আইসোমেট্রিক দৃশ্য বৃত্তকে কখন তার প্রকৃত আকৃতিতে প্রকাশ করা সম্ভভ হয় না।
প্রকৃত পক্ষে এই ক্ষেত্রে বৃত্তটি উপবৃত্ত আকারে যে কোন একটি আইসোমেট্রিক তলে
অংকিত দেখায়। এজন্য বৃত্তের ব্যাস মাপকে আইসোমেট্রিক দৈর্ঘ্য পরিনত করে এ মাপে
বাহুবিশিষ্ট একটি বর্গক্ষেত্রের আইসোমেট্রিক দৃশ্য অংকন করা হয়। অতঃপর নিম্নবর্নিত
অফসেট প্রনালী এর মাধ্যমে উপবৃত্ত রুপ অন্তলিখিত করা হয়।
এ উপবৃত্তের পরাক্ষ বৃত্তের প্রকৃত ব্যাস মাপের সমান হয়ে থাকে।
অফসেট প্রনালীঃ
প্রথমে প্রকৃত ব্যাস মাপ নিয়ে বৃত্তটি অংকন করে এর বাহিরে বর্গক্ষেত্র
বহির্লিখিত করে এর চারটি কোণে যথাক্রমে ABCD অক্ষ চিহ্ন বসাই। পরে এতে AC,BD কর্ণ দুটি বৃত্তটির E বিন্দুতে ছেদ করে। অতঃপর এই E এর মধ্য দিয়ে এবং AD এর সমান্তরাল রুপে একটি সরল
রেখা আঁকি। এ রেখা AB কে f বিন্দুতে
ছেদ করে। এখন বৃত্তটি ব্যাস মাপকে সম-মাত্রিক দৈর্ঘ্য পরিনত করে এর সমান বাহু
দ্বারা ৩০০ কোণে ABCD একটি রম্বস আঁকি। পরে AC,
BD কর্ণ দুটি টানি। এদের ছেদ বিন্দু মধ্য দিয়ে AD এবং AB বাহুর সমান্তরাল রুপে দুটি কেন্দ্র রেখা
টানি। এ রেখা দুটি রম্বসের বাহু চারটিকে PQRS বিন্দুতে ছেদ
করে। এবার সম্বসটি AB রেখার উপর যথাক্রমে A এর ডান দিকে, B এর বাম দিকে নিচের চিত্রে অংকিত বর্গক্ষেত্রটির af বাহুর সমান। AF ও BG দৈর্ঘ্য
কেটে লই। এই F এবং G বিন্দুতে AD বা BC এর সমান্তরাল রুপে দুটি সরলরেখা টানি। এই
রেখা দুটি AC এবং BD কর্ণ দুটিকে
যথাক্রমে H, I, J, K বিন্দুতে ছেদ করে। সবশেষে RHPISJQK বিন্দু গুলোর মধ্য দিয়ে একটি সসীম বক্ররেখা আঁকি। এটিই বৃত্তটির অংকিত
উপবৃত্তের রুপ হল।
চিত্র হবে
২.২.১ চতুস্কেন্দ্র
প্রনালীঃ
ধরা যাক, প্রদত্ত বৃত্তটির ব্যাসের সম-মাত্রিক দৈর্ঘ্য সমান
বাহু দ্বারা ABCD রম্বসটি অংকিত হল। প্রথমে এর বাহুগুলোর
মধ্য বিন্দু EFGH চিহ্নিত করি। অতঃপর PH, BE, DG, DF সরল রেখা দ্বারা যুক্ত করি। এ সকল বাহু দ্বারা ছেদিতবিন্দু J ও K চিহ্নিত করি।
এখন B ও D কে কেন্দ্র করে BH (বা BE)
কে ব্যাসার্ধ নিয়ে আর দুটি বৃত্তচাপ অংকন করি। এখন B ও D কে কেন্দ্র করে পুনরায় j ও
k কে কেন্দ্র এবং JE (বা JF) ব্যাসার্ধ নিয়ে আরো দুটি বৃত্তচাপ আঁকি।
উপরে অংকিত এ চারটি বৃত্তচাপ দেয়ারা অংকিত ক্ষেত্রই
নির্দিষ্ট বৃত্তের জন্য অঙ্কনিয় উপবৃত্তের রুপ।
চিত্র হবে
২.২.২ সমমাত্রিক
দৈর্ঘ্যের সাহায্য বৃত্তের আইসোমেট্রিক
দৃশ্য অংকনঃ
প্রথমে বৃত্তটির ব্যাস মাপকে সম-মাত্রিক দৈর্ঘ্যে পরিণত করি এবং উক্ত মাপের
বাহুবিশিষ্ট একটি বর্গক্ষেত্রের আইসোমেট্রিক দৃশ্য অংকন করি। এটা একটি রম্বস হল। অতঃপর উপরে বর্নিত অফসেট
বা চতুস্কেন্দ্র প্রণলিতে উপবৃত্তের রুপ অংকন করি।
চিত্র হবে
২.২.৩ শ্যাফট হোলস এবং তেপার এর
আইসোমেট্রিক দৃশ্য অংকনঃ
নিম্নে শ্যাফট এবং হোল এর আইসোমেট্রিক ড্রইং পদ্বতির সচিত্র বর্ননা প্রদর্শিত
হল। এখানে মনে রাখা দরকার যে প্রথমেই অব্জারভার এর নিকটবর্তি ইলিপস আঁকতে হবে।
অতঃপর অপর ইলিপসটি আকার নিমিত্তে কেন্দ্রবিন্দু আঁকতে হবে।
এ কেন্দ্র বিন্দুটি অবশ্যই আইসোমেট্রিক অক্ষ বরাবর স্যাফট বা হোলটি অংকনের
সাহায্য করে।
চিত্র হবে
২.৩ আইসোমেট্রিক দৃশ্য থেকে
আইসোমেট্রিক দৃশ্য অংকনঃ
বিভিন্ন আকৃতির অবজেক্ট এর আইসোমেট্রিক দৃশ্য অংকন ক্রমধাপ একই
প্রকার না হলেও নিম্নের বিষয় গুলো নির্দেসিকা রুপে কাজ করেঃ
(ক) আর্থোগ্রাফিক দৃশ থেকে বস্তুর আকার ও অনুপাত সম্পর্কে চিন্তা করা।
(খ) মনের ভিতর বস্তুটি ছবি তৈরি করা এবং কোন অবস্থানে ছবিটি সর্বোচ্চ ফুটে
উঠবে, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা।
(গ) কোন ধরনের পদ্ধতিতে অংকন কাজ করা হবে , সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা।
(ঘ) যথাযথ সাইজের পেপার নেয়া।
(ঙ) তারপর নিম্নে পধতিতে আইসোমেট্রিক দৃশ্য অংকন করা।
চিত্র হবে
২.৪ আইসোমেট্রিক দৃর্শ্যের
মাত্রাঃ
ড্রইং বস্তুর আকার আকৃতি সম্পর্কে ধারনা দেয় এবং পরিমাপ বস্তুর প্রকৃত মাপ ও
আকার আকার সম্পর্কে বাস্তব বর্ননা দেয়। ঈস্পিত বস্তুটি উৎপাদন করতে বা কার্যে
রুপায়িত করতে যে সব মাপ ও বর্ননা দরকার সেসব মাপ ও পরিমাপ ড্রইং-এ উল্লেখ করাকেই
ড্রইং এর মাত্রা বা ডাইমেনশনিং বলে।
ড্রইং যত সুন্দর হক না কেন তাতে পরিমাপ উল্লেখিত না হলে ইঙ্গিয়ারিং
দৃষ্টিতে তার কোন অর্থো হয় না।
আইসোমেট্রিক দৃশ্য অংকনের ক্ষত্রে এর টাইটেল
ব্লকে স্কেল উল্লেখ করার পরেও চিত্রের সাথে প্রধান ও প্রয়োজনিয় সকল মাপ
উল্লেখ করতে হয়। প্রকৃত পক্ষে ডাইমেনশনিং বা মাত্রা বলতে কতগুলো বিশেষ বিশেষ লাইন
টানার সিস্টেম প্রতীক বা সিম্বল ব্যাবহাত সংখা বা অংকন লিখন এবং প্রয়োজনীয় কিছু
তথ্য ও নোটস লিখন প্রভিতির সমষ্ঠি বোঝায়।
বস্তুর সর্বোমোট দৈর্ঘ, প্রস্ত, উচ্চতা অংশ বিশেষ বিস্তারিত মাপ গর্ত ছিদ্র
ধাপ না কোন অংশ উঁচু নিচু থাকলে তার পুর্নমাপ তৎসহ কিনার বা রেফারেন্স অক্ষ বা
লাইন থেকে দূরত্ত, দ্রিল থাকলে তার মাপ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ের তথ্য ও পরিমাপ
প্রভৃতি ডাইমেনশনিং এর অন্তর্ভুক্ত।
চিত্র হবে
ভালো লাগছে
ReplyDeleteস্যার ঘনবস্তুর চিত্র আইসোমেট্রিক পদ্ধতিতে দেখান
ReplyDeleteImage glue kothay??
ReplyDelete